শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: ১৫:৩০, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৩১, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যজোট। শনিবার রাতে প্ল্যাটফর্মের একটি নির্জন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ঐক্যজোটের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দল, বি.আর.ই.এল, রেলওয়ে রানিং স্টাফ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, রেলওয়ে কারিগর পরিষদ এবং রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঐক্যজোটের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট এম. আর. মঞ্জু বলেন, দেশের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনের মতো স্পর্শকাতর স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় সাধারণ যাত্রী ও রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। তাই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, রেলওয়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ রেলওয়ে স্টেশন ব্যবহার করেন। তাই গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্থাপনায় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি বা অবহেলা ছিল কি না—তা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানান। একই সঙ্গে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত ও প্রত্যক্ষ তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান তারা।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কমলাপুরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন, রেললাইন, সিগন্যাল ব্যবস্থা, ইয়ার্ড ও অন্যান্য স্থাপনায় নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জনবল এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে বলা হয়, কেউ যদি রেলওয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে থাকে, তাহলে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও যাত্রীসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছে ঐক্যজোট। কোনো সন্দেহজনক বস্তু, ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি দেশের সব রেলওয়ে স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করে রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ।