ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা আন্দোলন না করে নাশকতা করছে : রেলপথ প্রতিমন্ত্রী

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩:৩৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০৩:৩৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা আন্দোলন না করে নাশকতা করছে : রেলপথ প্রতিমন্ত্রী

রেলপথে নাশকতা ঠেকাতে স্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার এবং নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা আন্দোলন না করে নাশকতা করছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্টেশনের ২ নম্বর প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের কোচে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা নাশকতা করছে, তারা নাশকতাকারী এবং জুলাই-আগস্টে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর। তারা ডিসেম্বরকে সামনে রেখে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু আন্দোলন না করে নাশকতা করছে। দেশের মানুষ তাদের বিতাড়িত করেছে এবং তারা পালিয়ে গেছে। এখন জনসমর্থন না থাকায় পরাজিত ও পলাতক সেই শক্তি নাশকতার মাধ্যমে জনমনে ভীতি তৈরি করতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারা বাস্তবায়ন করেছে। নাশকতাকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ, আরএনবি, পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাশকতাকারীরা যেসব স্থান দিয়ে রেলস্টেশনে প্রবেশ করতে পারে, সেসব জায়গা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকালের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নেওয়া হবে। নাশকতার সঙ্গে যারাই জড়িত, তাদের ধরে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিডিয়ার সামনে কথা বলতে অভ্যস্ত নন। তবে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের স্থান সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি মূল প্ল্যাটফর্মে ঘটেনি। ওয়াশ প্ল্যান্টের দিক থেকে ট্রেনটি আসার সময় সেখানে গানপাউডার ব্যবহার করে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে বোঝা যায়, যারা এই কাজ করেছে তারা পরিকল্পনা করেই এসেছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, যেখানে আগুন লাগানো হয়েছে সেখানে অন্ধকার ছিল। স্টেশনে আসার পরপরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে একটি গ্যারেজ পুরোপুরি পুড়ে গেছে। এর বাইরে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তদন্তের পর জানা যাবে।

আরও নাশকতার আশঙ্কা আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা নাশকতাকারী, তারা নাশকতার চেষ্টা করবেই। নাশকতা করে কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটানো যায়নি। বিএনপি সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার এবং তারাই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। নাশকতাকারীদের জনগণ ও প্রশাসন মিলে প্রতিহত করবে।

রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে প্রশাসন, আরএনবি, পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষ উপস্থিত হয়েছে। এখন আরও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে, যাতে কোনো দিক দিয়ে অঘটন না ঘটে। দুষ্কৃতিকারীরা চেষ্টা করবে, একই সঙ্গে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টাও করা হবে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণে রেল চলাচলে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় হবে না বলেও জানান রেলপথ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঘটনার কারণে প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। তবে এর কারণে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় হবে না।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন