শিরোনাম
মো: মোতাহার হোসেন সরকার
প্রকাশ: ০৯:১৭, ২৭ মার্চ ২০২৬
উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা পঞ্চগড়ে নদী থেকে প্রতিদিন উত্তোলন করা হচ্ছে হাজার হাজার টন বালু। এই বালু এখন আর শুধু জেলার অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ নেই; তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে আমনুরা, ফরিদপুর, নোয়াপাড়া, খুলনা, টঙ্গী ও সিরাজগঞ্জে।
এই বালু পরিবহনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে রেলপথ। একসময় ট্রাকই ছিল পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু সড়কপথের সীমাবদ্ধতা, উচ্চ ভাড়া, চালক সংকট, রাস্তার খারাপ অবস্থা এবং যানজটের কারণে ব্যবসায়ীরা বিকল্প খুঁজছিলেন। বর্তমানে সেই বিকল্প হিসেবে রেলপথই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।
পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন এখন শুধু যাত্রী পরিবহনের কেন্দ্র নয়, বরং বালু পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ডাম্পার থেকে ট্রেনের বগিতে বালু তোলা হচ্ছে এবং তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে।
২০২৫ সালের ৩ জুলাই থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৭টি মালবাহী ট্রেনে বালু পরিবহন করা হয়। এতে রেলের আয় হয় এক কোটি তিরানব্বই লাখ ষোল হাজার নয়শ সত্তর টাকা। নতুন বছর ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত আরও ২০টি ট্রেন চলাচল করেছে, এতে আয় হয়েছে দুই কোটি ঊনষাট লাখ পঁচাত্তর হাজার সাতশ ছেচল্লিশ টাকা।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে চার কোটি বায়ানব্বই লাখ বিরানব্বই হাজার সাতশ ষোল টাকা। প্রতিটি ট্রেনে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টন বালু পরিবহন করা হয়েছে।
পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জাহিদ ইসলাম ‘রেল নিউজ ২৪’-কে জানান, বালুর চাহিদা থাকায় নিয়মিত মালবাহী ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩৭টি ট্রেন চলাচল করেছে এবং ভবিষ্যতে এই আয় আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বালু পরিবহনের কারণে মালবাহী ট্রেনের চাহিদা বেড়েছে এবং ব্যবসায়ীরা সময়মতো মাল পাঠাতে পারছেন, ফলে রেলের ওপর আস্থা বাড়ছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ট্রাকের তুলনায় ট্রেনে একসঙ্গে বেশি পণ্য পরিবহন করা যায় এবং সময়ও কম লাগে, ফলে ঝুঁকিও কম থাকে।
পঞ্চগড় থেকে প্রতিদিন কোটি টাকার বালু দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। এতে রেলের রাজস্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেলপথে বালু পরিবহন খরচ কমানোর পাশাপাশি এটি দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।