শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২:২৭, ১১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৩৬, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গোপালগঞ্জ-২ আসনের এমপি ডা. কেএম বাবর বলেছেন, এ মাসের (এপ্রিল) শেষ সপ্তাহে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ, গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা ট্রেন চলাচল শুরু হবে। আর পহেলা বৈশাখ থেকে ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী ট্রেন মুকসুদপুর স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেবে।
এতে এ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। অল্প খরচে এ জেলার মানুষ ট্রেনে চড়ে রাজশাহীর পাশাপাশি ঢাকা ও বেনাপোল যাতায়াত করতে পারবে।এতে অর্থ ও সময় সংশ্রয় হবে। একই সঙ্গে এ জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলাধীন চেয়ারম্যানদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সারা দেশের মানুষভাবে বিগত সরকার গোপালগঞ্জকে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছে।কিন্তু আমরা জানি বিগত সরকার গোপালগঞ্জের তেমন কোনো উন্নয়ন করেনি। বিগত শেখ হাসিনার সরকার গোপালগঞ্জ থেকে রাজশাহী ট্রেন চালু করেছে। তারা কি পারতো না গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা ট্রেন চালু করতে? তারা কি পারতো না গোপালগঞ্জে একটি ইপিজেড স্থাপন করতে? তাহলে তো আমার জেলায় মানুষের কর্মসংস্থান হতো। তারা মুখ দিয়ে বললে তো সব হতো।তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার দেশ শাসন করেছে। এ জেলার মানুষ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তারপরও গোপালগঞ্জ পৌর সভায় বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার। পৌরসভা পানিতে মুখে নেওয়া যায় না। নতুন সংযোগ দিতে পারছে না। যে পানি সরবরাহ করে তাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তখন শুনেছি গোপালগঞ্জ পৌরসভা না কি টাকার বন্যায় ভেসে গেছে। তাহলে ওই টাকা গেলো কোথায়? জনগণের জন্য কি একটি পানির প্লান্ট নির্মাণ করা গেলো না। যাতে জনগণ বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারে।ডা. বাবর বলেন, আমরা তিন এমপি মিলে গোপালগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি। আমাদের ব্যক্তিগত কিছু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দিন রাত কাজ করছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন হাতের কালি শুকানোর আগেই তা বাস্তবায়ন করেছে। আগামীতে সারা দেশের সঙ্গে গোপালগঞ্জেরও উন্নয়ন হবে। চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে ডা. বাবর বলেন, আপনারা সমাজের নিরীহ, দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের পক্ষে কাজ করবেন। নির্বাচনে ভোটের আশায় তাদের ঠকিয়ে প্রভাবশালী পক্ষ নেবেন না। এলাকায় মাদক, চুরি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে থাকবেন, তাহলে আল্লাহ চাইলে আপনারা পুনরায় নির্বাচিত হবে। আর মেহনতি মানুষের পক্ষে থাকলে আল্লাহ আপনার সঙ্গে থাকবেন।উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এমপি বাবর বলেন, আপনারা এমন প্রকল্প নেবেন না যা জনগণের কোনো কাজে আসবে না। আপনারা এমন প্রকল্প নিবেন যাতে জনগণ উপকৃত হবেন। আপনারা নির্ভয়ে কাজ করবেন যাতে আমার এলাকার মানুষ সুবিধা পায়। আমার সঙ্গে যারা সব সময় থাকেন (নেতাকর্মী) তাদের কোনো অনৈতিক কাজেও সহযোগিতা করবেন না। আমার সঙ্গে থাকা কেউ যদি আমার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিতে চায় আমাকে জানাবেন, আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।এমপি বাবর আরও বলেন, গোপালগঞ্জের প্রতিটি মানুষের এমপি আমি। তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমি একটি বাসযোগ্য গোপালগঞ্জ করতে চাই। যেখানে কোনো গডফাদার বা বাহিনী থাকবে না। কোনো রাজনৈতিক গডফাদারও থাকবে না। আমার কাছে সবাই সমান। আর এভাবে আমরা মিলেমিলে গোপালগঞ্জের উন্নয়ন করতে চাই।গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বাবলী শবনাম, সদর থানার ওসি আনিচুর রহমান, গোবরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, হরিদাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস হোসেন, উরফি ইউনিয়নের মনির গাজী, করপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, কাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম, দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিম আহমেদ, রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মন্জুরুল ইসলাম, কাজুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইউব আলী ফকির, শুকতাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রানা মোল্লা ও সাহাপুর ই্উনিয়নের চেয়ারম্যান বিনয় সরকার আনাদি বক্তব্য রাখেন।সংবর্ধনা সভায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, জেলা ও উপজেলা বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবকদল, যুবদল, ছাত্র নেতারা ও সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।