শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: ১৯:৪৮, ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪৯, ২৯ জুলাই ২০২৬
গ্রাফিক্স
সরকার প্রথমবারের মতো বেসরকারি মালিকানায় যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার উদ্যোগ বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চার জোড়া ট্রেন পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি জোড়া ট্রেনের বিপরীতে সরকার বছরে ৫ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০ বছরের জন্য ট্রেন পরিচালনার অনুমতি চেয়েছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রেনের ইঞ্জিন ও কোচ নিজস্ব অর্থায়নে সংগ্রহ করবে তারা। তবে ট্রেন পরিচালনা, টিকিট বিক্রি, জ্বালানি সরবরাহ, জনবল নিয়োগ, বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণসহ সব কার্যক্রম পরিচালনা করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। একই সঙ্গে সরকারি রেললাইন, লোকো শেড, ওয়ার্কশপ, ওয়াশ পিট ও অন্যান্য অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগও চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ প্রস্তাব নিয়ে সম্প্রতি রেলওয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিষয়টির সম্ভাব্যতা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং রেলের আর্থিক লাভ-ক্ষতির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে চার জোড়া ট্রেন চালানো হবে। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে ২২টি কোচ। পরবর্তীতে আরও এক জোড়া ট্রেন যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। মোট ১ হাজার ৩৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ১০৮টি কোচ ও ৬টি লোকোমোটিভ কেনার পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব কোচ ও ইঞ্জিন চীন, দক্ষিণ কোরিয়া অথবা ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হতে পারে। এগুলোর সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ২০ বছর।
বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুট বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও লাভজনক রুটগুলোর একটি। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এ রুটে যাতায়াত করেন। এ কারণেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি অন্য কোনো রুটের পরিবর্তে এই রুটেই ট্রেন পরিচালনার আগ্রহ দেখিয়েছে।
ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের কোনো মূলধনী বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না। ট্র্যাক ব্যবহারের ফি, রাজস্ব, রয়্যালটি, রক্ষণাবেক্ষণ ফি, কর ও শুল্ক থেকে সরকার নিয়মিত আয় করবে। পাশাপাশি উন্নতমানের সেবা নিশ্চিত হলে যাত্রীসেবার মানও বৃদ্ধি পাবে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যমান রেল আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে। সরকার ইতোমধ্যে নতুন ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে আইন, ২০২৬-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে। নতুন আইনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে ট্রেন পরিচালনা এবং নির্ধারিত ফি দিয়ে সরকারি রেললাইন ব্যবহার করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ট্রেন পরিচালনার সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। আইনটি অনুমোদন পেলে দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি মালিকানায় যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
ঢাকা-কক্সবাজার রুটের একাধিক যাত্রীর সাথে কথা বলে রেলনিউজ, তারা জানায়, "ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন ট্রেন যুক্ত হলে যাত্রীসেবার পরিধি ও সক্ষমতা বাড়বে। এই উদ্যোগ নেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ও রেল মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। বর্তমানে এ রুটে যাত্রীর চাহিদা অনেক বেশি। ফলে অতিরিক্ত ট্রেন চালু হলে টিকিটের সংকট কিছুটা কমবে এবং যাত্রীরা আরও সহজে সেবা পাবেন।
তবে আমরা মনে করি, বেসরকারি অংশগ্রহণের পাশাপাশি সরকারের কঠোর নজরদারি থাকতে হবে, যাতে ভাড়ার ওপর কোনো অযৌক্তিক প্রভাব না পড়ে এবং সেবার মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে বজায় থাকে। যাত্রীস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে এটি দেশের রেলখাতের জন্য একটি ইতিবাচক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।"
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, "রেলসেবার মান উন্নয়ন এবং যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সরকার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করছে। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন ট্রেন যুক্ত হলে রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। তবে যেকোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে যাত্রীস্বার্থ, সেবার মান, নিরাপত্তা এবং রেলের আর্থিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব দিক পর্যালোচনা করা হবে।