ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, বুলেট ট্রেন পরিষেবা স্থগিত

প্রকাশ: ২০:৪৩, ২৯ জুলাই ২০২৬

জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, বুলেট ট্রেন পরিষেবা স্থগিত

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপের কুমামোতো প্রশাসনিক অঞ্চলে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পরপরই একটি বড় শপিং মলে বিস্ফোরণ ও আংশিক ধসের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি একটি কারখানার চিমনি ধসে একাধিক কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দ্বিখণ্ডিত হয়েছে এবং প্রায় ৪৮ হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

ভূমিকম্পের পর কুমামোতোর সবচেয়ে বড় শপিং মল ‘ইয়ন’-এ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রায় ২০০টি দোকান থাকা মলটির একাংশ ধসে পড়ে। স্টিলের বিম ও ধ্বংসাবশেষ পার্কিং লটে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লাইন ফেটে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিখোঁজ কর্মীদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর ঘন ধোঁয়া ও ছাই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, ভূমিকম্পের আঘাতে নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কারখানার চিমনি ধসে পড়ে। এতে একাধিক কর্মী নিখোঁজ হন। দুটি স্থানীয় হাসপাতালে শতাধিক আহতকে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে প্রায় ৪৮ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান চলাচল এবং শিনকানসেন বুলেট ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে অঞ্চলের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাাইচি জরুরি বার্তায় ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া প্রায় তিন লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনীর শত শত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি করা হলেও পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর তা প্রত্যাহার করা হয়। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে একই কুমামোতো অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন