শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩:৫৮, ৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৫৯, ৫ অক্টোবর ২০২৬
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বাস পার্কিংয়ের দখলে চলে গেছে। এমনকি স্টেশনের ভেতরের খালি জায়গাতেও নিয়ম না মেনে একের পর এক বাস রাখা হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্টেশনমুখী যাত্রী ও স্থানীয় পথচারীরা।
বাস পার্কিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। আন্তঃজেলা বাসচালকদের একাংশের দাবি, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই তারা এখানে বাস রাখছেন। অন্যদিকে দূরপাল্লার পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সাময়িকভাবে এখানে বাস রাখতে হচ্ছে।
তবে সড়ক ও স্টেশন প্রাঙ্গণে বাস রাখার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে কদমতলী বাসস্ট্যান্ডমুখী রেলওয়ের সড়কটির রেললাইনের গা ঘেঁষে সারি সারি দূরপাল্লার বাস ও স্লিপার কোচ পার্ক করে রাখা হয়েছে। এতে সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটিতে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত।
এ ছাড়া সড়কের প্রবেশমুখেই গড়ে উঠেছে একটি অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত তদারকির অভাবেই সড়কটি প্রায় স্থায়ী বাস পার্কিংয়ে পরিণত হয়েছে।
অবৈধ পার্কিংয়ের বিষয়ে প্যারাডাইস ও লন্ডন এক্সপ্রেস কাউন্টারে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসের জিএম জামাল জানান, তারা ইদানীং ওই এলাকায় বাস রাখছেন। তবে অনুমতি ছাড়া সড়কে এভাবে বাস রাখা ঠিক নয় বলেও স্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ধারণক্ষমতার তুলনায় যানবাহন বেশি। জায়গা সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই পরিবহন শ্রমিকরা ফাঁকা জায়গায় বাস রাখছেন।
তিনি বলেন, বাস রাখার জায়গা সংকটের বিষয়টি তারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সিলেটের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী শোয়েব আহমদ বলেন, কাউকে কোনো ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নিজেদের ইচ্ছায় তারা এখানে বাস পার্ক করে রাখছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।