শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩:২৩, ৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:২৩, ৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকার মেট্রোরেলে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের একটি বড় অংশই শিক্ষার্থী। কিন্তু নিয়মিতভাবে পুরো ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করা এই তরুণ সমাজের জন্য একটি বড় আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশেরই নিজস্ব কোনো আয় না থাকায় তারা মেট্রোরেলেও বাসের মতো হাফ ভাড়া বা অর্থমূল্যের বিশেষ ছাড়ের দাবি জোরালোভাবে তুলেছেন।
অধিকাংশ শিক্ষার্থীরই নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই। টিউশনি বা হাতখরচের ওপর নির্ভর করে চলা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যয় মেটানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। সড়ক পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার নিয়ম কার্যকর রয়েছে। এই যুক্তিতে তারা মেট্রোরেলেও একই সুবিধা আশা করছেন।
বর্তমানে মেট্রোরেলে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বিশেষ ছাড় নেই। এমআরটি পাস ব্যবহার করলে সবাই যে ছাড় পান, সেটি শিক্ষার্থী বা সাধারণ সকলের জন্যই প্রযোজ্য, যা শিক্ষার্থীদের মতে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
উত্তরা দিয়াবাড়ি মেট্রো স্টেশন কেন্দ্র করে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। এদের কেউ মিরপুর, কেউ আগারগাঁও আবার কেউ বা মতিঝিল পর্যন্ত নিয়মিত যাতায়াত করেন। এই পথগুলোতে প্রতিদিন যাতায়াত করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মোটা অঙ্কের বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
বিকল্প হিসেবে শিক্ষার্থীরা যদি মেট্রোরেল বাদ দিয়ে বাসে চলাচল করতে চান, তবে জ্যাম ও অতিরিক্ত সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি যাতায়াত খরচ ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায়। সময় বাঁচাতে মেট্রোরেল ব্যবহার করতে বাধ্য হলেও চড়া ভাড়ার কারণে তাদের মাসিক বাজেট পুরোপুরি ওলোটপালট হয়ে যাচ্ছে।
একই চিত্র দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও। উত্তরার শেষ সীমান্ত ঘেঁষা দিয়াবাড়ি, খালপাড়, চণ্ডালভোগ, নলভোগ, উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর, ১৭ নম্বর সেক্টর, ১৫ নম্বর সেক্টর এবং পঞ্চবটি এলাকাসহ আশেপাশের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা থেকে শত শত শিক্ষার্থী লেখাপড়ার প্রয়োজনে নিয়মিত মেট্রোরেল ব্যবহার করেন। দূরদূরান্তের এসব এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য মেট্রোরেল যাতায়াত সহজ করলেও, নিয়মিত পূর্ণ ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য অনেকেরই নেই।
মেট্রোরেলে হাফ ভাড়া চালুর দাবিতে সরব রয়েছেন বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে তাদের বাস্তব অবস্থা ও মতামত এর বিষয়ে সময়ের কণ্ঠস্বর এর প্রতিবেদককের সাথে কথা বলেন, রকিবুল হাসান (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ)। তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী দূর-দুরান্তে পরিবার নিয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে হয়। বাসে হাফ ভাড়া দেওয়া গেলেও মেট্রোরেলে কেন সেই নিয়ম থাকবে না, তা বোধগম্য নয়। আমাদের তো কোনো নির্দিষ্ট বা স্থায়ী আয় নেই। প্রতিদিনের যাতায়াত খরচ মেটাতে গিয়ে হাতখরচের টাকা ফুরিয়ে যায়, যা পড়াশোনায় প্রভাব ফেলে।
মারিয়া সুলতানা (জার্নালিজম বিভাগের) শিক্ষার্থী তিনি বলেন, মেট্রোরেল আধুনিক ও সময় বাঁচানোর মাধ্যম হলেও এর পুরো ভাড়া আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিলাসিতার মতো। মাস শেষে টিকিটের পেছনে একটা বড় অংক চলে যায়। কর্তৃপক্ষের উচিত সড়ক পরিবহনের মতো মেট্রোরেলেও শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা।
একই বিভাগের আয়েশা বলেন, টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ ও যাতায়াত চালাতে হয়। মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর দ্রুত যাতায়াত করা সম্ভব হলেও ভাড়ার চড়া দামের কারণে নিয়মিত চড়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা চাই সরকার ও মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে হাফ ভাড়ার একটি যৌক্তিক নীতিমালা তৈরি করুক।
শিক্ষার্থীদের এই হাফ ভাড়ার দাবি এবং সার্বিক বিষয় নিয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ শাওগাতুল আলম (অতিরিক্ত সচিব) সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, মেট্রোরেল একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল, আধুনিক ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় গণপরিবহন ব্যবস্থা। এর অপারেশনাল ও মেইনটেন্যান্স খরচ অত্যন্ত বেশি। বর্তমান মেট্রোরেল আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে ‘হাফ ভাড়া’ বা ভর্তুকি মূল্যে টিকিট দেওয়ার কোনো বিধান বা পরিকল্পনা এই মুহূর্তে ডিএমটিসিএলের নেই। তবে সাধারণ যাত্রীসহ শিক্ষার্থীদের জন্য এমআরটি পাস বা র্যাপিড পাস ব্যবহারের মাধ্যমে ভাড়ার ওপর নির্দিষ্ট ১০% ছাড়ের যে সুবিধাটি চালু রয়েছে, সেটিই বহাল রাখা হয়েছে।