শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:১৫, ৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:১৬, ৫ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রামগামী ২ ডাউন মেইল ট্রেনের পাওয়ারকার অপারেটরকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে রেলওয়ে জিআরপি পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছায় ট্রেনটি। পরে ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে বিক্ষোভ করেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা। এ সময় বিজয় এক্সপ্রেস ও কর্ণফুলী এক্সপ্রেসও আটকে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর রাত ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ২ ডাউন মেইল ট্রেনের পাওয়ারকার নং-২০৫৭-এর দায়িত্বে ছিলেন এলই গ্রেড-৩-এর অপারেটর বদিউল আলম। ৫ অক্টোবর সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি হাসানপুর স্টেশনে অবস্থানকালে ঢাকা রেলওয়ে রেঞ্জের জিআরপি পুলিশের টিজি পার্টিতে থাকা কনস্টেবল গফুর ও হুমায়ুনসহ সিভিল পোশাকে থাকা আরও একজন সদস্য পাওয়ারকারের দরজা খুলতে বলেন।
বদিউল আলমের অভিযোগ, পুলিশের সদস্যরা পাওয়ারকারের ভেতরে যাত্রীসহ প্রবেশ করতে চাইলে তিনি তাদের নির্ধারিত আসনে বসার কথা বলেন। তিনি জানান, পাওয়ারকার মূলত ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সংবলিত ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং সেখানে করিডোর ব্যবস্থা না থাকায় বারবার দরজা খোলা নিরাপদ নয়।
এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিন পুলিশ সদস্য তাকে পাওয়ারকারের ভেতরের মসজিদে লাথি মেরে ফেলে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন বদিউল আলম। এ সময় তার মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, জিআরপি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বসার জন্য এসএলআর কোচে চারটি আসন বরাদ্দ রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই আসনগুলোতে তারা নিজেরা না বসে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে পাওয়ারকারের ভেতরের মসজিদে অবস্থান করেন এবং সেখানে যাত্রী ওঠানামা করান। বিষয়টি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
এদিকে মারধরের পর আহত অবস্থায় বদিউল আলম ফেনী স্টেশনে পৌঁছান। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ফেনী প্রবেশের পর তিনি এসি অপারেটর আসলামকে বিষয়টি জানান। পরে ট্রেন পরিচালক এস কে ঘোষকেও ফোনে জানানো হয়। তবে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বদিউল আলম পাওয়ারকারের ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এর ফলে ট্রেনটি প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চলাচল করে এবং সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছায়। পরে আহত বদিউল আলমকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিআরবি রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে চট্টগ্রাম স্টেশনে বিক্ষোভ শুরু করেন রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা। বিক্ষোভের কারণে জামালপুরগামী বিজয় এক্সপ্রেস ও ঢাকা অভিমুখী কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের চলাচলও ব্যাহত হয়।
নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের পরিবর্তে বিজয় এক্সপ্রেস সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রাম ছাড়ে। অন্যদিকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ইলেকট্রিক্যাল ফিট মেমো না নিয়েই সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ছাড়লেও পরে পাহাড়তলী স্টেশনে প্রায় এক ঘণ্টা আটকা পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিভাগের বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী তাকি আল যাওয়াদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্টেশনে ছুটে আসেন। পরে কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বিষয়টি চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) ও প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী (পূর্ব)-কে মুঠোফোনে অবহিত করেন।
পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে কর্মচারীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। এরপর চট্টগ্রাম স্টেশনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে মারধর, মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জিআরপি পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।