শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২:১৪, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২২:১৫, ১২ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে এক মাসের সময়সীমা নয়, প্রয়োজন রেলওয়ের নিজস্ব প্রশাসনিক ক্ষমতা, কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। যথাযথ কর্তৃত্ব ও সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করা হলে সাত দিনের মধ্যেই টিকিট বিক্রির অনিয়ম শনাক্ত, কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান এবং যাত্রীদের টিকিটপ্রাপ্তিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির।
তিনি বলেন, রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করতে শুধু ঘোষণা কিংবা সময়সীমা নির্ধারণ যথেষ্ট নয়। টিকিট বিক্রির পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, সন্দেহজনক বুকিং শনাক্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
মনিরুজ্জামান মনিরের মতে, ঢাকা–চট্টগ্রাম ও ঢাকা–কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে টিকিটের চাহিদা, আসনসংখ্যা, বুকিং, বাতিল এবং পুনরায় বিক্রির তথ্য সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনলাইন ও কাউন্টার টিকিট বিক্রির তথ্য যাচাই করে অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত করতে হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ঝুঁকিপূর্ণ রুটের টিকিট বিক্রির তথ্য পর্যালোচনা, পরবর্তী কয়েক দিনে সন্দেহজনক লেনদেন তদন্ত এবং সপ্তম দিনে অভিযানের অগ্রগতি ও ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। সাত দিনে সব অপরাধের বিচার শেষ করা সম্ভব না হলেও অনিয়ম শনাক্ত, তদন্ত শুরু এবং কালোবাজারি প্রতিরোধে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন সম্ভব।
রেলওয়ের ক্ষমতা ও জবাবদিহি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আইনসম্মতভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে টিকিট বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে। কোথাও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা থাকলে তা দূর করতে হবে; দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
মনিরুজ্জামান মনিরের ভাষ্য, টিকিট কালোবাজারি বন্ধের সাফল্য শুধু অভিযান বা গ্রেপ্তারের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যাবে না। সাধারণ যাত্রী নির্ধারিত নিয়মে টিকিট পাচ্ছেন কি না, সন্দেহজনক বুকিং কমছে কি না এবং একই অনিয়ম পুনরায় ঠেকানোর ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে কি না—সেটিই হবে সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি।
প্রধানমন্ত্রী ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব প্রশাসনিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে, প্রয়োজনীয় আইনসম্মত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিমাপযোগ্য ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।
তার বক্তব্য, “বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিন, সাত দিনের মধ্যে টিকিট কালোবাজারির বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করুন। রেলওয়ে জনগণের সম্পদ, টিকিট জনগণের অধিকার এবং যাত্রীসেবা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”