শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:১০, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:১১, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
রেলের টিকিট কালোবাজারি রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এক মাসের জন্য ক্ষমতা চাওয়ার পর আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে নিজের অতীত কর্মকাণ্ড তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রেলওয়েতে দায়িত্ব পালনকালে যাত্রীকল্যাণ, টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি রোধে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
পোস্টে মাহবুব কবির মিলন দাবি করেন, ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে রেলওয়েতে যোগদানের পর মাত্র সাড়ে তিন মাস আইন শাখায় দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ সময়ে যাত্রীসেবার উন্নয়ন, টিকিট কালোবাজারি বন্ধ এবং রেলের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধে একাধিক প্রস্তাব ও নথি উপস্থাপন করলেও সেগুলো বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।
তিনি লেখেন, রেলওয়েতে যোগদানের সময় প্রশাসন ও আইন শাখার অতিরিক্ত সচিব পদ শূন্য ছিল। যাত্রীকল্যাণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য প্রশাসন শাখায় দায়িত্ব চাইলেও তাঁকে আইন শাখায় পদায়ন করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে রেলওয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সভায় আলোচনা তোলার চেষ্টা করেও সফল হননি।
মাহবুব কবির মিলন আরও দাবি করেন, টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধসহ যাত্রীকল্যাণ ও দুর্নীতি-সংক্রান্ত প্রায় নয়টি ফাইল ই-নথির মাধ্যমে সচিবের কাছে পাঠিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফাইলগুলো অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন)-এর কাছে পাঠানো হলেও সংশ্লিষ্ট শাখার অন্যান্য প্রশাসনিক কাজের চাপের কারণে প্রস্তাবগুলো নিয়ে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।
পোস্টে তিনি জানান, ২০২০ সালের ৬ আগস্ট তাঁকে ওএসডি করা হয়। এর আগে দায়িত্ব পালনকালে রেলওয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দেওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল টিকিট কালোবাজারি রোধে যাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তাঁর’ নীতি বাস্তবায়ন, অনলাইন টিকিট বাতিলের রিফান্ড ব্যবস্থা চালু এবং যাত্রীসেবায় আধুনিক কল সেন্টার স্থাপন।
এ ছাড়া রেলওয়ে আইন বাস্তবায়নে চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সংযুক্ত করা, ইঞ্জিনের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজ করা, রেলের প্রকল্পগুলোর কাজের মান যাচাই ও তদারকিতে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দল গঠন এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে শক্তিশালী করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর তালিকায় আরও ছিল অবমুক্ত পুরোনো চীনা সাদা কোচকে স্ট্যান্ডিং যাত্রীবাহী কোচে রূপান্তর এবং তিন কোটি টাকা ব্যয়ে মেরামত করা একটি ইঞ্জিন চার মাসের ব্যবধানে অচল হয়ে পড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব।
রেলওয়ের দায়িত্বে থাকার সময় ক্যাটারিং বিধিমালা উন্নত মানে চূড়ান্ত করার কাজ করেছেন বলেও পোস্টে দাবি করেন সাবেক এই কর্মকর্তা। একই সঙ্গে ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইন সংশোধনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনটি চূড়ান্ত না হওয়ায় রেলওয়ে এখনো ওই পুরোনো আইনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে।
নিজের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলার জবাবে মাহবুব কবির মিলন বলেন, ২০১৫ সাল থেকেই রেলওয়ে ও নিরাপদ খাদ্য খাতের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব কাজের বিবরণ ফেসবুকেই রয়েছে। তাঁর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সমালোচনা করার আগে সেগুলো পর্যালোচনার আহ্বানও জানান তিনি।
রেলের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক মাসের জন্য ক্ষমতা চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে তাঁর এই পোস্ট নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রেলওয়ের যাত্রীসেবা উন্নয়ন, টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ এবং অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে অতীতে দেওয়া প্রস্তাবগুলোর কতগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে, আর কোনগুলো এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আগ্রহীরা।