ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

রেলকারখানায় মন্ত্রীর ক্ষোভ, দায় কি শুধু শ্রমিকের?

টিএলআর নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, বেতন ভাগাভাগির অভিযোগ; সংস্কার জরুরি

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬:৫১, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৫১, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

রেলকারখানায় মন্ত্রীর ক্ষোভ, দায় কি শুধু শ্রমিকের?

বাংলাদেশ রেলওয়ের সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কোচ সংস্কারের কাজের মান দেখে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ ঘটনা রেলওয়ের জনবল নিয়োগ, কারিগরি দক্ষতা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কাজের মান খারাপ হলে দায় কি শুধু শ্রমিকের, নাকি তদারককারী কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে?

রেলওয়ের খালাসী, ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি, পেইন্টার, কারখানার ওয়ার্কার, ওয়েম্যান ও গেটকিপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। সঠিক পদে দক্ষ জনবল নিয়োগ না হলে কাজের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।

অন্যদিকে, টিএলআর (অস্থায়ী শ্রমিক) নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক তদবির এবং প্রকৃত কর্মপ্রত্যাশীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে টিএলআর পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা নিজে কাজ না করে  অন্য শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করান এবং বেতনের অর্থ ভাগাভাগি করা হয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন।

টিএলআর শ্রমিকদের পাশাপাশি স্থায়ী ১৯ ও ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের উপস্থিতি, দায়িত্ব পালন এবং বেতন ব্যবস্থাপনাও পর্যালোচনা করা জরুরি। হাজিরা রেজিস্টার, দায়িত্ব বণ্টন, বেতন বিল ও বাস্তব কর্মপরিস্থিতি যাচাই করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

সৈয়দপুর কারখানায় কাজের মান খারাপ হওয়ার কারণ নির্ধারণে উপকরণ, প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি ও তদারকির বিষয়ও তদন্ত করা প্রয়োজন। শুধু শ্রমিককে দায়ী করলে প্রকৃত সমস্যা আড়ালে থেকে যেতে পারে।

রেলপথমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা, কাজের মান পর্যালোচনার পাশাপাশি নিয়োগব্যবস্থা ও জনবল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। মন্ত্রীর ক্ষোভ তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা দক্ষ জনবল, সুশাসন ও দৃশ্যমান সংস্কারে রূপ নেবে।

লেখক: মনিরুজ্জামান মনির
সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন