ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আখাউড়া স্টেশনে ট্রেন থেকে জোড়া খুনের প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১:১২, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:১২, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আখাউড়া স্টেশনে ট্রেন থেকে জোড়া খুনের প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘটিত জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি মোস্তাক আহমেদ ওরফে আবু (৫৮)কে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার এড়াতে নিজের সাদা চুল কালো করে চেহারায় পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ট্রেনে পালিয়ে যাওয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।এর আগে কুমিল্লা শহরের বাদশাহ মিয়া বাজার এলাকা থেকে এ মামলার অপর দুই আসামি মোস্তাকের স্ত্রী হনুফা বেগম (৪৫) ও পালিত মেয়ে ইতি (১৮)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।বুধবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। এ সময় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুল আলম শাহসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।পুলিশ জানায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে খালেদা আক্তার ওরফে বেবি (৭০) এবং তাঁর ভাতিজা মঞ্জুরুল আলম ওরফে তুতু (৩৫)কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত খালেদা আক্তার ছিলেন মোস্তাক আহমেদের আপন ছোট বোন এবং মঞ্জুরুল আলম তাঁর ভাতিজা।হত্যাকাণ্ডের পর স্ত্রী ও পালিত মেয়েকে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান মোস্তাক। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নিজের সাদা চুল কালো করে চেহারায় পরিবর্তন আনেন। এরপর প্রথমে ট্রেনে করে সিলেটে চলে যান। সেখানে নিজেকে নিরাপদ মনে না করায় পরদিন পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন।এদিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোস্তাকের অবস্থান শনাক্ত করে ডিবি পুলিশ। পরে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে কুমিল্লা শহরের বাদশাহ মিয়া বাজার এলাকা থেকে হনুফা বেগম ও ইতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোস্তাকের অবস্থান শনাক্ত করে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশের একটি জমি বিক্রি করা নিয়ে মোস্তাকের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বিরোধ চলছিল। জমিটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা। জমি নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।সম্প্রতি ওই জমি বিক্রির উদ্যোগ নেন মোস্তাক। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর ভাতিজা মঞ্জুরুল আলম জমিটির সামনে একটি ব্যানার টানিয়ে জমিটি না কেনার জন্য অনুরোধ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এরই জেরে সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও মঞ্জুরুল আলমের ওপর হামলা চালানো হয় এবং ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়।পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, খালেদা আক্তারকে হামলা করা হলে তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে যান ভাতিজা মঞ্জুরুল আলম। এ সময় তিনিও হামলার শিকার হন।পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দাউদকান্দির গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।নিহত খালেদা আক্তার স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন।ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন