ঢাকা, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

৮ ভাদ্র ১৪৩৩

আখাউড়ায় রেললাইনে মৃত্যুর মিছিল, ছয় মাসে উদ্ধার ২৯ মরদেহ

প্রকাশ: ০২:২২, ২৪ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০২:২৩, ২৪ আগস্ট ২০২৬

আখাউড়ায় রেললাইনে মৃত্যুর মিছিল, ছয় মাসে উদ্ধার ২৯ মরদেহ

সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রেললাইন ও এর আশপাশ থেকে ২৯টি মরদেহ উদ্ধার করেছে আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ২৩ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী। তাদের মধ্যে ১৯ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও ১০ জনের পরিচয় এখনও মেলেনি।

পরিচয়হীন ১০ মরদেহ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আখাউড়া রেলওয়ে সেকশনের আওতাধীন প্রায় ১০০ কিলোমিটার রেলপথের আখাউড়া-আশুগঞ্জ, আখাউড়া-মন্দবাগ ও আখাউড়া-মুকুন্দপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

এরমধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ১৯ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় আখাউড়া রেলওয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। পরিচয় না পাওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

পুলিশ জানিয়েছে, অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ট্রেনের ধাক্কায় বা ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটেছে। তবে প্রতিটি মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

‘অসতর্ক চলাচল ও অননুমোদিত পারাপার দুর্ঘটনার প্রধান কারণ’

আখাউড়া দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ রুটে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রেললাইনে অসতর্ক চলাচল ও অননুমোদিত পারাপার এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস জানান, রেললাইনে মরদেহ পাওয়া গেলে পুলিশ তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করে। প্রতিটি ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ছয় মাসে ২৯টি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল রেললাইনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনা কমাতে সচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার এবং রেললাইনে পথচারীদের অবাধ চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন