শিরোনাম
মোঃ মোতাহার হোসেন সরকার স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২৩:৩২, ২৬ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৫১, ২৬ আগস্ট ২০২৬
দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময়ের দাবির পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদন এসেছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মার।
বুধবার (২৬ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে সালাউদ্দিন আম্মার জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে পদ্মা, সাগরদাঁড়ি ও তিতুমীর—এই তিনটি ট্রেনের যাত্রাবিরতির জন্য বিভাগীয় কমিশনার সুপারিশ করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেল মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদন দিয়েছে।
সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের আচরণ, শৃঙ্খলা এবং রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে বাকি ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতির বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
তবে অনুমোদন এলেও ঠিক কবে থেকে যাত্রাবিরতি চালু হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট হয়নি। তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি স্টেশনটি ওয়ান-লেন হওয়ায় কিছু নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করে যাত্রাবিরতি চালু করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে যেসব ট্রেনের এখনো যাত্রাবিরতি নেই, সেগুলোর যাত্রীদের সুবিধার্থে শাটল বাস সার্ভিস চালুর দাবিও জানানো হয়েছে। সালাউদ্দিন আম্মার জানান, পদ্মা ট্রেন ভোর ৪টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের কাছাকাছি আসে, মধুমতী রাত ১১টার দিকে আসে এবং ধূমকেতু রাত ১১টার দিকে ছেড়ে যায়। বিভাগীয় কমিশনার পদ্মা ট্রেনের জন্য শাটল বাসের সুপারিশ করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সাগরদাঁড়ি ও তিতুমীর ছাড়া রাতের অন্যান্য ট্রেনের জন্যও শাটল বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
পোস্টে শিক্ষার্থীদের প্রতি দুটি অনুরোধও জানিয়েছেন রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। তিনি সবাইকে বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ না করার পাশাপাশি রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ না করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হামলার শিকার হতে পারেন—এমন আশঙ্কায় যাত্রাবিরতির বিষয়ে এক জায়গায় আপত্তি তোলা হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও তিনি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এমন কোনো ঘটনা ঘটবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন।
দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়নের পথে থাকায় এটিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্মরণীয় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন সালাউদ্দিন আম্মার। যাত্রাবিরতি চালুর পর স্টেশনটিকে আবারও প্রাণবন্ত করে তোলার পাশাপাশি বিষয়টিকে উৎসবের আমেজে উদ্যাপনের প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
সবশেষে শিক্ষার্থীদের আরও কিছুটা অপেক্ষা এবং সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া মানে এখন বাস্তবায়ন সময়ের ব্যাপার মাত্র।