শিরোনাম
সৌজন্যে: ঢাকা পোস্ট
প্রকাশ: ১১:৪৩, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৩, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও ব্যাকআপ মেমোরি কিংবা ডাটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ভেতরে জমছে না কোনো ভিডিও তথ্য। এমন চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র ধরা পড়েছে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ যাত্রীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। স্টেশন মাস্টার বলছেন, ক্যামেরাগুলো সচল করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
জামালপুর রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েক বছর আগে স্টেশনটিতে মোট ১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। এর মধ্যে প্রধান গেটের দুই পাশে দুটি, টিকিট বুকিং কাউন্টারের সামনে তিনটি, ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পাঁচটি এবং ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দুটিসহ অন্যান্য পয়েন্টে আরও চারটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। তবে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে থাকা পিসির মনিটর পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ১৬টি ক্যামেরার মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র ৫টি। বাকি ১১টি ক্যামেরা পুরোপুরি বন্ধ। তার চেয়েও বড় শঙ্কার বিষয় হলো, যে ৫টি ক্যামেরা সচল রয়েছে সেগুলোরও কোনো ভিডিও ফুটেজ স্টেশন মাস্টারের রুমে থাকা কম্পিউটারের সার্ভেইল্যান্স হার্ডডিস্ক বা হার্ডডিস্কে সংরক্ষিত হচ্ছে না। ব্যাকআপ মেমোরি বা ডাটা স্টোরেজ না থাকায় সিসিটিভি মনিটরে শুধু লাইভ দৃশ্য দেখা গেলেও অতীতের কোনো রেকর্ড পাওয়ার উপায় নেই।
রেলওয়ে স্টেশনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় এমন নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই স্টেশনকে ঘিরে প্রায়ই সক্রিয় থাকে বিভিন্ন অপরাধী চক্র। টিকিট কাউন্টারের সামনে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি, পকেটমার ও ছিনতাইকারীদের আনাগোনা নিত্যদিনের চিত্র। এমনকি প্ল্যাটফর্মে আত্মহত্যার মতো অপ্রীতিকর ঘটনার ঝুঁকিও থেকে যায়।

যে কোনো অপরাধের ক্লু উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু স্টোরেজ না থাকায় অপরাধ সংঘটিত হলেও তার কোনো প্রমাণ বা সূত্র পাওয়ার সুযোগ থাকছে না। এ ছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ঠিক কবে স্থাপন করা হয়েছিল কিংবা এর মেমোরি ব্যাকআপ কবে শেষ হয়ে গেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি স্টেশন মাস্টার। সিসিটিভি ক্যামেরার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার।
স্টেশন মাস্টারের এমন উদাসীনতা ও গাফিলতি নিয়ে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সিসিটিভি ক্যামেরার পর্যাপ্ত স্টোরেজ যুক্ত করা এবং অচল ক্যামেরাগুলো মেরামত করে আরও নতুন ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। অন্যথায় যাত্রী নিরাপত্তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
রাফিয়াতুল জান্নাত নামের এক যাত্রী বলে, আমরা তো জানি স্টেশনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল এবং এটাতে সবকিছু রেকর্ড হয়। আজ শুনছি ক্যামেরা সব নষ্ট। এটা তো অবশ্যই আমাদের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলেছে। এখন যদি আমার ব্যাগটা কেউ নিয়ে যায় তখন ছিনতাইকারীকে পুলিশ খুঁজে বের করবে কীভাবে? জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন ২০২৬ সালে এসেও এখন ২০০০ সালে পড়ে আছে।
শেখ ফরিদ নামের এক সরকারি চাকরিজীবী বলেন, দেশে যারা বড় বড় অপরাধ করে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ অপরাধী রেলপথে পালিয়ে যায়। কারণ রেলওয়েতে এতো কিছু চেক করা হয় না। জামালপুরে কোনো অপরাধ করে অপরাধী রেলপথে পালিয়ে গেলো তাহলে পুলিশ এসে কেমনে বুঝবে সে কোন ট্রেনে পালিয়েছে। বর্তমানে দেশের যে অবস্থা, ট্রেনে কেউ আগুন দিলো, এখন কে দিলো তাকে কি খুঁজে পাওয়া যাবে। দ্রুত এটি ঠিক করা দরকার।
জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, আমি এখানে প্রায় দেড় বছর ধরে আছি। আমি আসার পর থেকেই দেখছি এখানকার সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট, কাজ করে না। এটা আমার দপ্তরের অধীনে না, এটা স্টেশন মাস্টারের অধীনে। আমি স্টেশন মাস্টারকে এটা ঠিক করতে বলেছি। একটা স্টেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা অতি গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার মো. মাহমুদুল হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি চলতি বছরের ৬ জুলাই এ স্টেশনের দায়িত্বে এসেছি। আসার পর থেকেই দেখছি সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো নষ্ট। পরে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছি। ক্যামেরাগুলো কবে নষ্ট হয়েছে বা কবে স্থাপন করা হয়েছে এ বিষয়েও আমি কিছু জানি না। এটা আপনাকে ঢাকা থেকে জানতে হবে।
পরে ঢাকা পোস্টের জামালপুর জেলার প্রতিবেদক স্টেশন মাস্টারের ঢাকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তাদের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি নিরাপত্তার ইসু দেখিয়ে কারো নম্বর দিতে রাজি হয়নি।