শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬:২৯, ৩১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৭:২৪, ৩১ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের একাধিক আন্তঃনগর ট্রেনের ভৌতসেবা (অনবোর্ড সার্ভিস) প্রদানসংক্রান্ত টেন্ডারে অস্বাভাবিক দরপ্রস্তাবের তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এমন দর দিয়েছে, যেখানে তারা কোনো লভ্যাংশ তো নিতেই চায়নি, বরং মালামাল ব্যয় ও অতিরিক্ত ২ শতাংশ কন্টিনজেন্সি খরচও দেখায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রবণতা টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জাহানাবাদ ও রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের টেন্ডার খোলার সময় বিষয়টি সামনে আসে। টেন্ডার-সংক্রান্ত নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এমন দর দিয়েছে, যা প্রশাসনিকভাবে নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়েও কম।
যেসব প্রতিষ্ঠান আলোচনায়ঃ নথি অনুযায়ী, হাবিব বানিজ্য বিতান, এইচ এন্ড এইচ, পাইওনিয়ার এন্টারপ্রাইজ, শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজ, আইসিডি ক্যান্টিন এবং জান্নাত ট্রেডিং—এই ছয়টি প্রতিষ্ঠান তাদের দরপ্রস্তাবে লভ্যাংশ ও অতিরিক্ত ব্যয় দেখায়নি।
দর বিশ্লেষণে যা দেখা গেছে, টেন্ডারের সিডিউলের ৪৮ নম্বর পৃষ্ঠায় সেকশন-৬ অনুযায়ী, ১১টি কোচে ১,৭১৬ রাউন্ড ভৌতসেবা এবং অতিরিক্ত ৩৪ রাউন্ড ট্রিপের ব্যয় উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ৪৯ ও ৫০ নম্বর পৃষ্ঠার দর বিশ্লেষণী ফরমে শ্রমিক মজুরি, নির্ধারিত প্রশাসনিক খরচ এবং অন্যান্য ব্যয় নির্দিষ্ট করা আছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব নির্ধারিত খরচ বাদ দিলেও ন্যূনতম মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩৩ লাখ ২১ হাজার ২৫০ টাকা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবিত দর এর নিচে।
একই প্রবণতা একাধিক ট্রেনে, একই ধরনের দরপ্রস্তাব পাওয়া গেছে—একতা এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস
ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস এর ক্ষেত্রে। এসব ট্রেনের ভৌতসেবা টেন্ডারেও একই প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা গেছে।
এদের আয়ের উৎস কি? একাধিক ঠিকাদারের সাথে কথা বললে কেউ মুখ খুলেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি ট্রেনের স্টুয়ার্ডদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঠিকাদাররা অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে বেতন একাউন্টে জমা হলেও তা ভোগ করতে না পারার অভিযোগও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে লভ্যাংশ ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে না। ফলে কম দর দেওয়ার পেছনে বিকল্প আয়ের উৎস থাকতে পারে, যা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক রেলনিউজকে বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো। রেলওয়ের ঠিকাদারি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। যে কোন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।