ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

২ বৈশাখ ১৪৩৩, ২৭ শাওয়াল ১৪৪৭

ডিএমই ক্যারেজের রাসেল আলমের বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১:৪০, ৬ এপ্রিল ২০২৬

ডিএমই ক্যারেজের রাসেল আলমের বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ

ঢাকার ডিএমই ক্যারেজ বিভাগের কর্মকর্তা রাসেল আলমের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ঠিকাদার। তাদের দাবি, ই-জিপি পদ্ধতিতে আহ্বান করা কয়েকটি টেন্ডারের মূল্যায়নে পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী Significant Low Tender (SLT) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি।

তথ্য ঘেঁটে জানা যায়, ডিএমই ক্যারেজ দপ্তর থেকে মোট পাঁচটি টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডারগুলোর ওপেনিং অনুষ্ঠিত হয় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। টেন্ডার আইডিগুলো হলো— ১২৩০৫০৭, ১২৩০৪২৯, ১২২৬৫০৩, ১২৩০৪৪৭ এবং ১২২৬৪৪৭।

অভিযোগকারীরা জানান, প্রতিটি টেন্ডারে দরদাতাদের অংশগ্রহণ সন্তোষজনক হলেও SLT পদ্ধতিতে মূল্যায়ন সঠিকভাবে করা হয়নি। পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী দরদাতা বেশি থাকলে নির্ধারিত গাণিতিক সূত্র ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য দরদাতা নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেটি অনুসরণ না করে মনগড়া সিদ্ধান্তে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।একটি টেন্ডারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, একই কাজের জন্য দুইটি প্রতিষ্ঠানের নামে আলাদা সময়ে NOA (Notice of Award) ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে AB Engineering এবং ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে M/S Star Technical Works-এর নামে NOA দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ঠিকাদারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে—বাস্তবে কাজটি কোন প্রতিষ্ঠান পেয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, অফিস এস্টিমেটের উপরে দর দিলে নিয়ম অনুযায়ী কাজ পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি। এমনকি প্রয়োজন হলে ই-জিপিতে কুয়েরি দিয়ে দরদাতাকে জানানো যায়, সেটিও করা হয়নি। বরং নির্ধারিত ক্রম অনুসরণ না করে অন্য প্রতিষ্ঠানের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এসব টেন্ডার পুনরায় আহ্বান (রিটেন্ডার) করে SLT পদ্ধতিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ প্রদান করা হোক।তবে অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ডিএমই ক্যারেজ, ঢাকা–এর কর্মকর্তা রাসেল আলম। তিনি লিখিতভাবে রেলনিউজকে এসএমএসে জানান, প্রথম উইনিং বিডার A.B Engineering-কে NOA দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ে Performance Security জমা দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে পিপিআর-২০২৫ এর বিধি ৩৪(খ) অনুযায়ী তাদের Tender Security বাজেয়াপ্ত করা হয়।

তিনি আরও জানান, পুনর্মূল্যায়ন শেষে অনুমোদন গ্রহণ করে দ্বিতীয় উইনিং বিডার M/S Star Technical Works-কে NOA প্রদান করা হয়েছে। একই সময়ে দুইটি প্রতিষ্ঠানকে NOA দেওয়া হয়নি এবং এতে পিপিআর-২০২৫ এর কোনো লঙ্ঘন হয়নি।

রাসেল আলম দাবি করেন, সর্বশেষ যে প্রতিষ্ঠানকে NOA দেওয়া হয়েছে তাদের কোট করা অর্থ দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় ৬.১৩৯ শতাংশ কম। এছাড়া SLT পদ্ধতির হিসাব সম্পূর্ণভাবে ই-জিপি সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়, যেখানে টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটি (TEC) বা প্রকিউরমেন্ট এন্টিটির (PE) কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন