শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১:৪১, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২১:৪১, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রেলওয়ের মাফিয়া খ্যাত আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন রিপনের সিন্ডিকেট পশ্চিমাঞ্চলে যে পদ্ধতিতে অর্থ লোপাট করছে এবং রেলওয়ে রাজস্ব হারাচ্ছে তার কিছু তথ্য উপাত্ত রেল নিউজের হাতে এসেছে।
তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, পশ্চিমাঞ্চলের বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যিক ট্রেন ৫৫১ নং,৫/৬ রাজশাহী কমিউটার, ৫৪৫ লোকাল,২৩/২৪ নং রকেট মেইল, ২৭/২৮ ঘাগট মেইল, ১৫/১৬ নং মহানন্দা এক্সপ্রেস,৫৮৫ লোকাল, ২৫/২৬ নকশি কাঁথা এক্সপ্রেস, ৫১৩/৫০৬/৫০৫/৫০৮/৫০৭,১৯/২০ বগুড়া এক্সপ্রেস এবং ২১/২২ পদ্মরাগ কমিঊটার সর্বশেষ ২০০৯ সালে টেন্ডার করা হয়েছিলো।
২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত রেলওয়ের মাফিয়াখ্যাত সালাউদ্দিন রিপন এই ট্রেনগুলো বেসরকারিভাবে বৈধ ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
যখন এই ট্রেনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তখন ২০১৩ সালে তখন ধুরন্ধর সালাউদ্দিন রিপন হাইকোর্টের একটি স্টে অর্ডার বের করেন যাতে পরবর্তীতে আর কোন নতুন দরপত্র আহ্বান না করা হয়।
এমতাবস্থায় ২০১৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের এখন অব্দি এই পাঁচটি ট্রেনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
ক্ষমতার পালাবদল হলো কিন্তু আওয়ামীলীগের নেতা সালাউদ্দিন রিপন এর আধিপাত্য এক চুল পরিমানও কমাতে পারেনি কেউ। কারন নেপথ্যে রয়েছে সালাউদ্দি রিপনের সিন্ডিকেট। রেলওয়ের কালো বিড়ালদের এই সিন্ডিকেট রিপনের পক্ষে ঢাল হয়ে দাড়াচ্ছে।
চিঠিপত্র ঘেটে দেখা যায়,
রেলভবন ঢাকা থেকে উপপরিচালক (টিসি) মো: আনসার আলী ৮ জানুয়ারি ২০২৫ এ চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পশ্চিম), রাজশাহী বরাবর স্টে অর্ডার বাতিল এর জন্য ব্যবস্থা নিতে একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়। কেন এই পাঁচটি ট্রেনের স্টে অর্ডারগুলো এখনো ওঠানো হয়নি এবং আইন কর্মকর্তাগণ এর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায় যে ৮/১/২৫ ইং তারিখের চিঠিটি ৯/০১/২৫ তারিখে চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পশ্চিম) রিসিভ করেন কিন্তু এক বছর চার মাস অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরেও এখনো পর্যন্ত চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার পশ্চিম এবং আইন কর্মকর্তাগণদের কাছ থেকে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
আরো জানা যায় যে, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী লিজকৃত এই পাঁচটি ট্রেন যাওয়া এবং আশা মিলিয়ে রেক (বগি) কম্পোজিশন (৮/১৬), কিন্তু তারা চালায় আসা-যাওয়া মিলিয়ে (৫/১০)।
ট্রেনে এই রেক কম চালানোর কারণে ট্রেন হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব।কারণ খতিয়ে দেখা গেছে যে এর পেছনে কাজ করছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট যার মধ্য অন্যতম খুলনা স্টেশনের মোঃ শামীম (হেড টিএক্সআর) এবং খুলনার স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাকির।যাদের সহযোগিতায় ট্রেনের বগি গুলোকে ড্যামেজ দেখানো হয়। যার কারণে কম সংখ্যক বগি দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করা হলেও কিন্তু যাত্রীর কোন তারতম্য ঘটে না যাত্রীর ফ্লো ঠিকই থাকে। এখানে যেহেতু সরকার সিট অনুযায়ী ভাড়া পায় যার ফলশ্রুতিতে সরকার হারায় রাজস্ব এবং মোহাম্মদ সালাউদ্দিন রিপন এর প্রতিষ্ঠান এর মুনাফা ঠিকই পেয়ে যায়।রেল নিউজের কাছে একাধিক বিলের কপি সংরক্ষিত আছে। যা দিয়ে অনায়াসেই সালাউদ্দিন রিপন সহ তার সহযোগী রেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব।
রিপনের লাভের একটি অংশ পেয়ে থাকেন খুলনার স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাকির এবং খুলনার হেড টি এক্স আর মোঃ শামীম।
আরো অনুসন্ধানে জানা যায় যে সালাউদ্দিন রিপনের ডান হাত মোহাম্মদ হান্নান যিনি পশ্চিমাঞ্চল রেলের মাফিয়া হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত তিনি সকল অর্থনৈতিক লেনদেন গুলা করে থাকেন যার মধ্যেও প্রতিদিন দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হয় মোঃ শামীম হেড টিএক্স আর এবং স্টেশন মাস্টার মোঃ জাকির কে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, মহানন্দা( রহনপুর টু খুলনা) ,নকশী কাঁথা (খুলনা টু ঢাকা) এবং রকেট (খুলনা টু চিলাহাটি) এই তিনটি ট্রেনে তিনটি করে বগি কম দেওয়া হয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।
পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহী অফিসের সিসিএম এর এডমিন অফিসার মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন ও এসিওপিএস (পি) আব্দুল আউয়াল এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। প্রতিটি ট্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে লেট করার কারণে রেলওয়ের কন্ট্রোল এর কর্মকর্তারা অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধা পান। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, রেলওয়ের আইন কর্মকর্তা কি সালাউদ্দিন রিপন এর সাথে আতাত করেছে?
সালাউদ্দিন রিপন এর ম্যান মোহাম্মদ হান্নান রেল নিউজকে বলেন, পুরো পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা আমি একা তদারকি করি না। রহনপুর ও চিলাহাটি অফিসে অন্য লোক আছেন। সিন্ডিকেটকে টাকা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন অনেক মাস আমাদের লাভই হয় না। বগি কমানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, রেল পুরো বগি দিলে আমরা নিতে বাধ্য। পুরো পশ্চিমাঞ্চলে এফ এস বগি আছে ৩ টি।
খুলনা স্টেশনের হেড টি এক্স আর মো: শামীম রেল নিউজকে টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেন। তবে বগি কম দেয়ার ব্যাপারে তার হাত নেই বলে জানান। সালাউদ্দিন রিপন এর ট্রেনগুলোতে বগি কম যায় কিন্তু অন্যদের ট্রেনে বগি ঠিকমতো যায় কেনো? এর কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারে নি।
খুলনা স্টেশন মাস্টার মো: জাকির পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বলেন হান্নান এর একটি টাকাও আমার পকেটে আসেনি। কোন সিন্ডিকেটের সাথে আমি জড়িত না।
পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহী অফিসের সিসিএম এর এডমিন অফিসার মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন বলেন, বগি কমানোর দায়িত্ব আ।আমাদের না। এটা মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের। তিনি আরো বলেন ৫ আগস্টের পরে অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা মহোদয় নির্দেশ দিলো ট্রেনগুলো বাতিল করার জন্য। আমরা রিপোর্টও দিলাম। কিন্তু রিপন হাইকোর্টে আবেদন করে স্টে অর্ডার নিয়েছে।
এসিওপিএস (পি) আবদুল আউয়ালকে ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ভবিষ্যৎ এ তার বক্তব্য পেলে যুক্ত করা হবে।