শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯:৪৭, ২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৫৫, ২ এপ্রিল ২০২৬
স্বামী শাহ আলম একের পর এক রেলের জমি দখল করেছে বৈধ, সেমি বৈধ কিংবা অবৈধ উপায়ে। স্ত্রী বসে থাকবেন তা কি হয়? স্বামীর দেখা দেখি স্ত্রীও শুরু করেছেন জমি দখল। তবে নামটা শুধু স্ত্রীর, আসল নাটাই শাহ আলমের হাতে।
শাহ আলমের স্ত্রীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে রেলওয়ের জমি দখল করে ‘তাসফিয়া গার্ডেন নামে একটি রেস্টুরেন্ট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. জাফর হায়দার।
অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালের প্রধান ফটকের দক্ষিণ পাশে, সিআরবি এলাকা সংলগ্ন প্রায় ৬ হাজার বর্গফুট রেলভূমির ওপর রেস্টুরেন্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। জমিটি অবৈধভাবে দখল করে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে লাইসেন্স নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটি জনাবা ইয়াসমিন আলমের নামে হলেও এর কার্যক্রম পরিচালনা করেন তাঁর স্বামী শাহ আলম। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে রেলওয়ের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, রেস্টুরেন্টটির পাশাপাশি আশপাশের আরও কিছু রেলভূমি দখল করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ছাত্র হত্যাকারী মাফিয়া ডন হেল্লাল আকবর চৌধুরী বাবর আলী (যুবলীগ নেতা) ব্যবসায়িক পার্টনার হওয়ায় রেলওয়ে কর্মকর্তাদের জিম্মি করে রেলভূমি দখল, টেন্ডার বানিজ্য সহ যাবতীয় কার্যাদি পরিচালনা পূর্বে করেছেন আর বর্তমানে টাকা খরচ করে সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেস্টুরেন্টটিতে নিয়মিত উচ্চ শব্দে গান-বাজনা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা পাশের হাসপাতালের রোগীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এ বিষয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর একটি চিঠির মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপককে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। যার স্মারক নং ৫৪০১০০০০০১২৫৪০১১১৩ (লুজ)-৬০৮/১ স্মারকে ১৩ নভেম্বর ২০২৫ কিন্তু এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক ঠিকাদার মো. আলী বাদল বলেন, অতীতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা,২০২০ অনুযায়ী তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিধি বহির্ভূত কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হবে এবং ব্যবস্থা নেয়া হবে।”