শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮:৪২, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪৩, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের জনসংযোগ বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ শাহ আলমের ‘মেসার্স এস.এ কর্পোরেশন’। কোচে নেই হেডরেস্ট কভার, অপরিষ্কার পর্দা—চরম দুর্ভোগে উত্তরাঞ্চলের যাত্রীরা। বারবার অভিযোগের পরও নীরব কর্তৃপক্ষ!
বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এস.এ কর্পোরেশন’-এর সঙ্গে চুক্তি করা হলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর প্রতিফলন হচ্ছে না। বরং চুক্তির শর্ত ভঙ্গের কারণে উত্তরাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ রেলওয়েতে চলাচলকারী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের এসি সীট/ বার্থ ও এসি চেয়ার কোচে জানালার পর্দা এবং এসি/নন এসি চেয়ার কোচে হেডরেস্ট সরবরাহ, নিয়মিত ধোলাই এবং নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল মেসার্স এস.এ কর্পোরেশন’-এর । কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ কোচেই হেডরেস্ট কভার অনুপস্থিত এবং এসি কোচের পর্দা অপরিষ্কার অবস্থায় রয়েছে।
হেডরেস্ট কভার না থাকায় যাত্রীরা সরাসরি সিটের উপর মাথা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে ঘাম, তেল ও ময়লা জমে থাকছে। এতে একদিকে যেমন অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে সিটের রেক্সিন ও ফোম ছিড়ে যাচ্ছে ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে যাত্রীসেবার মান স্পষ্টভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।
বর্তমানে লালমনিরহাট ও পঞ্চগড় রুটের গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ট্রেন—লালমনি এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, বুড়িমারী এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস এবং পঞ্চগড় এক্সপ্রেস—এর অধিকাংশ কোচেই এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক জনসংযোগ বিভাগ রেলভবন ঢাকার সঙ্গে ৫ বছর মেয়াদী চুক্তি স্বাক্ষর করে প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তির ১৪ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, লাইসেন্সগ্রহীতা নিজ তত্ত্বাবধানে প্রতি সপ্তাহে নূন্যতম দুইবার হেডরেস্ট কভার পরিবর্তন এবং প্রতি মাসেএকবার এসি কোচের পর্দা ধোলাই বা পরিবর্তনের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু বাস্তবে এই শর্তগুলো মানা হচ্ছে না, যা সরাসরি চুক্তি ভঙ্গের শামিল।
বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী, লালমনিরহাট দফতর থেকে একাধিকবার দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরিচালক (জনসংযোগ), বাংলাদেশ রেলওয়ে, রেলভবন, ঢাকা-কে অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি অফিস স্থাপন করলেও দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করছে। একাধিকবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে যাত্রীসেবার মান ধারাবাহিকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ইতিপূর্বে যান্ত্রিক বিভাগের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আন্তঃনগর ট্রেনে এসি কোচের পর্দা ও হেডরেস্ট কভার সংযোজন করা হতো। কিন্তু এস.এ কর্পোরেশনের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সঠিকভাবে এসব সরবরাহ ও সংযোজন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে লালমনিরহাট এর বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী শেখ আসিফ আহমাদ স্বাক্ষরিত ০২ এপ্রিল ২০২৬ এর একটি চিঠি) রেলনিউজের হাতে এসেছে। যেখানে স্পষ্ট শাহ আলম এর প্রতিষ্ঠান এর অনিয়ম এর ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে এর পরিচালক (জনসংযোগ) বরাবর অবহিত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, সম্মানিত যাত্রী সাধারণের স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণের নিমিত্ত চুক্তিপত্র মোতাবেক এসি কোচের পর্দা, এসি চেয়ার ও শোভন চেয়ার কোচের হেডরেস্ট কভার পরিবর্তন/সংযোজনের পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অথবা এস এ কর্পোরেশনের সাথে চুক্তি বাতিল করে যান্ত্রিক (ক্যারেজ এন্ড ওয়াগন) বিভাগ, লালমনিরহাট কর্তৃক হেডরেস্ট কভার ও জানালার পর্দা ক্রয় ও সরবরাহের সুযোগ প্রদানের সদয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করে চিঠি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, চুক্তির সুযোগে প্রতিষ্ঠানটি রেলওয়ের কোচে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের একচেটিয়া সুবিধা ভোগ করছে। অথচ যাত্রীসেবার মূল দায়িত্বে এমন অবহেলা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
চুক্তির ৩০ ও ৩১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো পক্ষ শর্ত লঙ্ঘন করলে নির্দিষ্ট নোটিশের মাধ্যমে চুক্তি বাতিল করার বিধান রয়েছে। তবুও দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চলতে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—কেন এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
চুক্তির ৩২ নম্বর ধারায় রয়েছে আবেদনপত্রে বা প্রস্তাবনায় নেই এমন কোন বিষয়ে মতবিরোধ হলে বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাপরিচালকের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত হইবে।
এ অবস্থায় যাত্রীদের দাবি, দ্রুত এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে চুক্তি বাতিল করে রেলওয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অথবা দক্ষ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পর্দা ও হেডরেস্ট কভার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য, স্বাস্থ্য ও সেবার মান রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।অভিযোগের বিষয়ে এস এ কর্পোরেশন এর স্বত্তাধিকারী শাহ আলম এর ফোনে যোগাযোগ এর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় রেলনিউজ। এই নিউজের ব্যাপারে মিস্টার শাহ আলমের বক্তব্য পাওয়া গেলে যুক্ত করা হবে।