ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ট্রেনের বগির আদলে সাজানো হলো বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ

দৈনিক শিক্ষাডটকম, দিনাজপুর

প্রকাশ: ১৬:২৪, ৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৬:২৫, ৯ আগস্ট ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ট্রেনের বগির আদলে সাজানো হলো বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ

সংগৃহীত ছবি

বিদ্যালয়ের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে পা রাখতেই মনে হবে ভুল করে ট্রেন স্টেশনে এসে পড়েছি। তবে ভুল ভাঙতে সময় লাগে না—এটা কেবল রঙ আর তুলির নিখুঁত জাদুকরী রূপ। আসলে এটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষগুলোর সারি। বাংলাদেশ রেলওয়ের বগির আদলে এমনভাবে পুরো ভবনে রঙতুলির আঁচড় দেওয়া হয়েছে যে, প্রথম দর্শনে আস্ত এক সচল ট্রেন ভেবে যে কেউ মুহূর্তের জন্য বিভ্রান্ত হয়ে পড়বেন!

এমন ব্যতিক্রমী দৃশ্য দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় পৌর শহরে উপজেলা পরিষদ-পরিচালিত ‘ফুলকুঁড়ি বিদ্যা নিকেতনের’। শুধু শ্রেণিকক্ষই নয়, অভিভাবকদের বসার কক্ষটিও রঙ করা হয়েছে ট্রেনের ইঞ্জিনের আদলে। ফলে পুরো বিদ্যালয়টি এখন যেন ছোট্ট একটি রেলস্টেশন, যা শিশুদের কাছে হয়ে উঠেছে আনন্দ আর কৌতূহলের এক নতুন জগৎ।

শ্রেণিকক্ষে ঢুতেই দেখা যায়, খুদে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় ব্যস্ত। এমন ব্যতিক্রমী পরিবেশে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের চোখেমুখেও অদ্ভূত এক প্রশান্তি ও উচ্ছ্বাস।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, এই পরিবেশে তাদের পড়াশোনা করতে বেশ ভালো লাগে। তারা আনন্দিত। তাদের ভাষ্য, ‘আমাদের বেশিরভাগই এখনো ট্রেনে উঠিনি। কিন্তু ট্রেনের মতো রঙ করা বিদ্যালয়ে আমরা পড়ি। স্কুলের নাম বলতেই সবাই বলে ওঠেন, ট্রেনের ছবি আঁকা স্কুলটিকে তোমরা পড়?’

শিক্ষার্থী অংকন তাপস্যী, আতিক হাসান ও আদিবা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলে, ক্লাসরুমে বসেই মনে হয় আমরা যেন ট্রেনে চেপে কোথাও বেড়াতে যাচ্ছি! জানালার পাশে বসে পড়াশোনা করছি আর পাশের দৃশ্য দেখছি। এই অনুভূতিটা আমাদের খুব ভালো লাগে।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনের গল্পটাও বেশ চমকপ্রদ। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সোহরাব হাসান জানান, উপজেলা পরিষদ পরিচালিত এই বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে। শিশুদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং জ্ঞান অর্জনের পরিবেশকে আনন্দময় করতে কর্তৃপক্ষ সবসময়ই বিভিন্ন উৎসাহমূলক ও সৃজনশীল উদ্যোগ নিয়ে থাকে। ট্রেনের বগির আদলে শ্রেণিকক্ষ রঙ করা তারই একটি ব্যতিক্রমী প্রয়াস।

তিনি আরও জানান, শুধু শ্রেণিকক্ষই নয়, বিদ্যালয়ে আসা অভিভাবকদের বসার কক্ষটিও রঙ করা হয়েছে ট্রেনের ‘ইঞ্জিনের’ আদলে! আর এই পুরো ভাবনা ও বাস্তবায়নের পেছনের মূল কারিগর হলেন বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ হাছান। তারই দূরদর্শী চিন্তা থেকে বিদ্যালয়টি আজ যেন এক টুকরো ‘ট্রেন স্টেশন’-এ রূপ নিয়েছে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ‘এখনো কাজ শেষ হয়নি। পুরো কাজ শেষ হোক, তখন এই ছবি আঁকার গল্প ও আমার অনুভূতি তুলে ধরব, এখনই নয়।’

#স্কুল #শিক্ষার্থী #শ্রেণিকক্ষ #ট্রেন

#দিনাজপুর #ফুলবাড়ী #ব্যতিক্রমী_বিদ্যালয় #ফুলকুঁড়ি_বিদ্যা_নিকেতন #ট্রেন_স্কুল

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন