শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫:০৬, ৩১ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৫:০৬, ৩১ মে ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে আরও ৬টি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির। তিনি এ সিদ্ধান্তকে রেলওয়ের জনবল সংকট, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতি আড়াল করার একটি প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন।
এক বিবৃতিতে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। জনগণের টাকায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ধীরে ধীরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি রেলওয়ের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিবর্তে নির্ভরশীলতা বাড়াবে।”
তিনি বলেন, “রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দাবি করছে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন পরিচালনার ফলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন—একই ট্রেন, একই রেললাইন, একই কোচ, একই যাত্রী এবং একই সরকারি ভাড়ায় যদি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লাভ করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ রেলওয়ে কেন পারবে না? এর উত্তর রেলওয়ে প্রশাসনকে জনগণের সামনে দিতে হবে।”
“জনবল সংকটের দায় রেলওয়ের নয়, নীতিনির্ধারকদের”
মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “বর্তমানে হাজার হাজার পদ শূন্য থাকার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বছরের পর বছর নিয়োগ বন্ধ বা সীমিত রেখে জনবল সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন সেই সংকটকে অজুহাত বানিয়ে ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হচ্ছে। এটি সমস্যার সমাধান নয়, বরং ব্যর্থতা স্বীকারের নামান্তর।”
তিনি আরও বলেন, “রেলওয়ের পোষ্য ও যোগ্য প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পদে নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। শূন্য পদ পূরণ না করে আউটসোর্সিং ও বেসরকারিকরণের পথ বেছে নেওয়া হলে ভবিষ্যতে রেলওয়ের নিজস্ব জনবল কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।”
“দুর্নীতি বন্ধ না করে বেসরকারিকরণ সমাধান নয়”
বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি বলেন, “টিকিটবিহীন যাত্রী, রাজস্ব ফাঁকি, টেন্ডার অনিয়ম, বদলি বাণিজ্য ও প্রশাসনিক দুর্বলতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। বরং এতে নতুন করে ঠিকাদার ও সিন্ডিকেটভিত্তিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
তিনি দাবি করেন, রেলওয়ের আয় কমে যাওয়ার জন্য সাধারণ কর্মচারীরা দায়ী নয়; বরং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও যথাযথ তদারকির অভাবই এর অন্যতম কারণ।
সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান;
মনিরুজ্জামান মনির সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “রেলওয়েকে বাঁচাতে হলে বেসরকারিকরণ নয়, জনবল নিয়োগ, দক্ষতা বৃদ্ধি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের সম্পদ রাষ্ট্রের হাতেই থাকা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি রেলওয়ের স্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকবে। প্রয়োজনে রেলওয়ের অবহেলিত পোষ্য পরিবার, চাকরিপ্রত্যাশী ও সচেতন রেলপ্রেমীদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
বিবৃতির শেষে তিনি বলেন, “রেলওয়ে জনগণের সম্পদ। এই সম্পদকে ধীরে ধীরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমরা অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।”