ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

১২ কার্তিক ১৪৩৩

তিন বছরের মধ্যে ৬০ মিটারগেজ লোকোমোটিভ পাবে রেলওয়ে

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০০:৫৭, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০০:৫৮, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

তিন বছরের মধ্যে ৬০ মিটারগেজ লোকোমোটিভ পাবে রেলওয়ে

বাংলাদেশ রেলওয়ের মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে ২০২৯ সালের মধ্যে ৬০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব লোকোমোটিভ যুক্ত হলে কনটেইনার, জ্বালানি ও খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন বাড়ানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগরের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকা রুটে নিয়মিত কনটেইনার পরিবহন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গন্তব্যে জ্বালানি ও খাদ্যশস্য পরিবহন চলছে। তবে মিটারগেজ লোকোমোটিভের সংকটের কারণে বর্তমানে মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা কমেছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদিত হয়েছে।

এ ছাড়া আগে অনুমোদিত আরও ৩০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের গ্রিন রেলওয়ে প্রকল্পের আওতায় আরও ২০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বৈঠকে মোংলা বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে মোংলা থেকে টাঙ্গাইলের সয়দাবাদ ও জয়পুরহাটে সীমিত পরিসরে মোলাসেস পরিবহন করা হচ্ছে। তবে মোংলা থেকে অন্য কোনো পণ্য পরিবহনের চাহিদা বর্তমানে নেই বলে জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ৯৫ ও ৯৬ নম্বর ট্রেন মোংলা-বেনাপোল রুটে চলাচল করছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে পর্যায়ক্রমে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ যুক্ত হবে। এর মধ্যে ১৮টি কোচ ইতিমধ্যে এসেছে। এসব কোচ পাওয়া সাপেক্ষে মোংলা-ঢাকা রুটে ট্রেন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও অপারেটিং রেশিও পর্যালোচনা করা হয়। এ ছাড়া রেলওয়ের মোট জমি, ব্যবহৃত ও ইজারাকৃত জমির পরিমাণ, ইজারা থেকে আয়, ইজারাগ্রহীতাদের তালিকা, অবৈধ দখলে থাকা জমি এবং ভূমিসংক্রান্ত মামলার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। রেলওয়ের জমি ও স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

অনলাইন রেল টিকিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে সহজ ডটকম।

 

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে রেলওয়ের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন ভেন্ডর নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে।

বৈঠকে রেলওয়ের লোকসান কমিয়ে ধীরে ধীরে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর এবং লেভেল ক্রসিংগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের নির্দেশনা দেয় কমিটি। পাশাপাশি রেলওয়ের লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টে প্রয়োজনীয় আইনজীবী নিয়োগ এবং আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলো নিষ্পত্তির বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বেনাপোল থেকে খুলনা পর্যন্ত সকালে কমিউটার ট্রেন চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেয় কমিটি।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মহিত তালুকদার, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো এবং মুহাম্মদ আজীজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন