শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:৫৪, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৫৪, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াতকারী জনপ্রিয় আন্তদেশীয় ট্রেন ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’-এর রুট পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রেনটি বর্তমানের পরিবর্তে পদ্মা সেতু ও বেনাপোল রুট দিয়ে চলাচল করলে যাত্রীদের প্রায় তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি ভাড়াও প্রায় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বর্তমানে ঢাকা থেকে দর্শনা সীমান্ত হয়ে কলকাতা যেতে মৈত্রী এক্সপ্রেসের নির্ধারিত সময় লাগে প্রায় ৭ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট, যা অনেক সময় যানজট ও পরিচালনাগত জটিলতায় ৯ থেকে ১০ ঘণ্টায় গড়ায়। তবে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-যশোর-বেনাপোল রেলপথে ট্রেনটি পরিচালনা করা সম্ভব হলে এই যাত্রাসময় প্রায় ৬ ঘণ্টায় নেমে আসবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে বেনাপোল পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালুর পর থেকে এই পথে যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে।
২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল চালু হওয়া মৈত্রী এক্সপ্রেস নিরাপত্তা জনিত কারণে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে স্থগিত রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠকে (আইজিআরএম) ট্রেনটি পদ্মা সেতু দিয়ে পরিচালনার প্রস্তাবটি আলোচনায় আসে। ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ডও এই পথে ট্রেন চালুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ট্রেনটি পুনরায় চালু এবং রুট পরিবর্তনের বিষয়ে ভারতীয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রস্তাব ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রীদের প্রায় ৯৫ শতাংশই বাংলাদেশি, যারা মূলত চিকিৎসা, ব্যবসা বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য যাতায়াত করেন। আকাশপথের চেয়ে সাশ্রয়ী হওয়ায় ট্রেনটির চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত রুট পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে দূরত্ব ও জ্বালানি খরচ উভয়ই কমবে, যা সাধারণ যাত্রীদের ভ্রমণ আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলবে।