শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১:১৬, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৭, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরের প্রধান রেলস্টেশনে ভয়াবহ রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাপোরিঝঝিয়াগামী একটি ট্রেন যখন প্ল্যাটফর্মে ছাড়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল, ঠিক তখনই জেটচালিত একটি ড্রোন সেখানে আঘাত হানলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে প্রতিষ্ঠান ‘উক্রজালিজনিতসিয়া’ এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের গভর্নর ওলেকসান্দর হানঝা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় কমপক্ষে পাঁচজন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভেও হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান শহরটির মেয়র ইহোর তেরেখভ। সারারাত ধরেই ইউক্রেনের বিভিন্ন প্রান্তে রাশিয়ার পক্ষ থেকে হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। এর অংশ হিসেবে রিভনে অঞ্চলে আরেকটি হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একটি কার্গো বা পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা চালিয়েছে মস্কো।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলার মুখে পড়েছে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোও। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারারাত ধরে মস্কোর দিকে ধেয়ে আসা শত শত ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, শহরের আকাশসীমায় প্রবেশের মুখে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
বিশেষ করে যখন রাশিয়ার রাজধানীতে ২২টিরও বেশি আফ্রিকান দেশের শীর্ষ নেতারা একটি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে এই বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটল। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতির এমন সময়ে কিয়েভের এই ধরনের হামলা চালানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, দেশজুড়ে রাতের আকাশসীমায় ইউক্রেনের ছোড়া সহস্রাধিক ড্রোন সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
এছাড়া বাশকোর্তোস্তান অঞ্চলের স্তেরলিতামাক শহরের একটি শিল্পাঞ্চলে ভূপাতিত ড্রোনের টুকরো পড়ে সামান্য ক্ষতি হলেও সেখানকার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মেয়র এমিল শাইমারদানভ। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসেও মস্কো অঞ্চলে বড় ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের পক্ষ থেকেই হামলা ও পাল্টা হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাঝেই আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মস্ক ও কিয়েভের মধ্যে পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর সুবাদেই বর্তমানে রুশ নিয়ন্ত্রित ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা নিয়ে একটি প্রতিনিধি দল রওনা হয়েছে। অবরুদ্ধ ওই শহরের বাকি থাকা বাসিন্দাদের মাঝে ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য স্থানীয়ভাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। ক্রেমলিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ সেখানে ত্রাণ পৌঁছে যাবে এবং যারা শহর ছেড়ে যেতে ইচ্ছুক, তাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই জানিয়েছে যে, গত মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই ছয় দিনের যুদ্ধবিরতি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রয়েছে।