শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:২৬, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৭, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ইতালিতে ট্রেনে ভ্রমণের সময় চলন্ত ট্রেনটি হুট করে উঠে যাচ্ছে সুবিশাল এক জাহাজের পেটে—শুনতে অদ্ভুত হলেও এটি কোনো কল্পকাহিনি নয়! ইতালির ‘ট্রেনিতালিয়া ইন্টারসিটি নোত্তে’ (Trenitalia Intercity Notte) সার্ভিসে মিলবে রোমাঞ্চকর এই অভিজ্ঞতা। মেসিনা প্রণালি অতিক্রম করার জন্য আস্ত ট্রেনটিকে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ একটি ফেরির ওপর। ইউরোপজুড়ে এ ধরনের যাত্রীবাহী ‘ট্রেন-ফেরি’ সার্ভিস এখন বললেই চলে বিলুপ্ত।
সম্প্রতি ভ্রমণের নানা মুহূর্ত নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করা জনপ্রিয় নির্মাতা ফ্যালন তাঁর মায়ের সঙ্গে রোম থেকে সিসিলি ভ্রমণের সময় এই ব্যতিক্রমী রাতের ট্রেনে সফর করেন। তাঁর ভাষ্যমতে, সাগর পাড়ি দেওয়ার পুরোটা সময় ট্রেনটি অবস্থান করে জাহাজের ভেতরে। যাত্রীদের সামনে দুইটি সুযোগ থাকে—চাইলে নিজেদের কেবিনে আরামদায়ক ঘুম দিতে পারেন, কিংবা ট্রেন থেকে নেমে জাহাজের ডেকে গিয়ে সমুদ্রের অনবদ্য রূপ উপভোগ করতে পারেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ফ্যালন লেখেন:
"আমার জীবনের সবচেয়ে নজরকাড়া স্লিপার ট্রেন যাত্রা এটিই! সাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রেনটি আক্ষরিক অর্থেই একটা বিশাল ফেরিতে চেপে বসে। মাত্র ১৪০ ডলারে—যা সাধারণ একটা হোটেলের ভাড়ার সমান—আমরা দুজন পাশাপাশি দুটি প্রাইভেট কেবিন পেয়েছিলাম। রোম থেকে যাত্রা শুরু করে যখন ঘুম ভাঙল, দেখি সিসিলির উদ্দেশ্যে আমাদের ট্রেনটি ভেসে চলেছে ফেরির ভেতরে!"
তিনি আরও জানান, ট্রেনের জানালা দিয়ে জাহাজের ভেতরের দৃশ্য দৃশ্যমান হওয়া ছিল এক জাদুকরী অভিজ্ঞতা। তাদের মূল গন্তব্য পালার্মো হলেও পথিমধ্যে মনোরম তাওরমিনা শহর ঘুরে দেখার জন্য তারা ট্রেন থেকে বিরতি নেন। কয়েক দিন পর ফের পালার্মোর উদ্দেশ্যে রওনা দেন, যার পুরো যাত্রাপথের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছিল চোখ জুড়ানোর মতো।
ফ্যালনের শেয়ার করা পোস্টটিতে নেটিজেনরা প্রচুর আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং নিজেদের স্মৃতি ও মন্তব্য ভাগ করে নিয়েছেন:
"অসাধারণ দৃশ্য! প্রত্যেকেরই জীবনে অন্তত একবার হলেও এই ট্রেনের অভিজ্ঞতা নেওয়া প্রয়োজন।"
"ডেনমার্ক ও জার্মানির মাঝখানেও একসময় এমন ট্রেন-ফেরি চলত।"
"আমি কয়েকবার এই রুটে যাতায়াত করেছি, প্রতিবারই অভিজ্ঞতা অসাধারণ ছিল। জেনে রাখুন, বর্তমানে এটিই বিশ্বের একমাত্র সচল যাত্রীবাহী ট্রেন-ফেরি। কোভিডের সময় বাকি দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর চালু হয়নি।"
"১৯৭২ সালের কথা মনে পড়ে যায়! ডোভার থেকে কালে হয়ে ইংলিশ চ্যানেল পার হয়েছিলাম ট্রেন-ফেরিতে। সেই ভ্রমণের আনন্দই ছিল আলাদা।"
"সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত প্রচারের কারণে দিন দিন এসব পর্যটনকেন্দ্রের ব্যয় সাধারণ স্থানীয়দের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।"
ভ্রমণপিপাসুদের উদ্দেশ্যে ফ্যালন কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিয়েছেন:
থার্ড-পার্টি এজেন্সির বাড়তি খরচ এড়াতে 'ট্রেনিতালিয়া' (Trenitalia)-র নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকেই টিকিট বুক করা উচিত।
তাওরমিনা যেতে চাইলে 'রোমা তেরমিনি' থেকে 'তাওরমিনা-জারদিনি' স্টেশন সিলেক্ট করতে হবে। আর শেষ গন্তব্য পালার্মো হলে 'পালার্মো চেন্ত্রালে' বাছাই করতে হবে।
ভ্রমণের প্রায় ৯০ থেকে ১২০ দিন আগেই ট্রেনের টিকিট অবমুক্ত করা হয়।
রাতের এই ট্রেনে ক্যাটারিং সুবিধা সীমিত, তাই যাত্রার পূর্বে প্রয়োজনীয় হালকা খাবার ও পানীয় সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ইতালির নৈসর্গিক উপকূল ধরে রাতের যাত্রা, ট্রেনের ভেতরে বসেই জাহাজে ওঠার বিরল দৃশ্য এবং সাগরের বুক চিরে এগিয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে এই ভ্রমণ সাধারণ রেলে চড়ার চেয়ে একেবারেই আলাদা এক অভিজ্ঞতা এনে দেবে!