ঢাকা, রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

মেট্রোরেল দেখে শেখ হাসিনা কেঁদেছিলেন আজ

প্রকাশ: ১৯:৪২, ২৫ জুলাই ২০২৬

মেট্রোরেল দেখে শেখ হাসিনা কেঁদেছিলেন আজ

কোটা সংস্কার আন্দোলনের রক্তাক্ত ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত দিন। টানা সহিংসতা ও প্রাণহানির পর সেদিন সীমিত সময়ের জন্য কারফিউ শিথিল করা হলেও জনমনে আতঙ্ক কাটেনি। একদিকে মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিচার দাবি করেন, অন্যদিকে দেশজুড়ে চলতে থাকে গণগ্রেফতার। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে এবং শিক্ষাব্যবস্থাও বড় ধরনের সংকটে পড়ে।

২৫ জুলাই সকালে মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্দোলনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশন ঘুরে দেখে তিনি বলেন, ‘আমি জনগণের কাছে বিচার চাইছি। কোটা আন্দোলনের নামে এ তাণ্ডব যারা করেছে, তাদের বিচার দেশবাসীকে করতে হবে।’

এদিকে আন্দোলনের সহিংসতায় নিহতদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ঘটনা দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি করে। বিভিন্ন সূত্রে নিহতের সংখ্যা নিয়ে নানা তথ্য সামনে আসে।

টানা কয়েকদিনের কঠোর কারফিউর পর ২৫ জুলাই সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়। একই সঙ্গে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্যাংক ও সরকারি-বেসরকারি অফিস খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে সীমিত পরিসরে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হলেও সেনাবাহিনীর টহল, পুলিশের তল্লাশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে।

সেদিনও দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত ছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ জুলাই একদিনেই প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে ঢাকাতেই গ্রেফতার হন ৬৪১ জন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণগ্রেফতার কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপ দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ঢাকাস্থ দূতাবাসের জরুরি নয় এমন কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশ ত্যাগের অনুমতি দেয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সব ধরনের সহিংসতার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান।

আন্দোলনের প্রভাব পড়ে শিক্ষাব্যবস্থাতেও। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৮, ২৯ ও ৩১ জুলাই এবং ১ আগস্টের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। এতে সারা দেশের লাখো পরীক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

একই দিন নিহতদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বালন, কবর জিয়ারত ও গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা। টানা দমন-পীড়নের মধ্যেও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।

২৫ জুলাইয়ের ইতিহাস হলো একদিকে স্বৈরাচারের পৈশাচিকতা, অন্যদিকে তার নির্লজ্জ অভিনয়ের। তবে ওই অভিনয় সাধারণ মানুষের চোখে ধুলা দিতে পারেনি; বরং ওই রক্তভেজা দিনটিই হাসিনার পতন ত্বরান্বিত করে এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে পৌঁছে দেয় চূড়ান্ত বিজয়ের দোরগোড়ায়।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন