শিরোনাম
প্রকাশ: ২২:১৪, ৮ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা মেট্রোরেলের যাত্রীদের ফার্স্ট-মাইল ও লাস্ট-মাইল যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে অ্যাপভিত্তিক বাইসাইকেল শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘জোবাইক’। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে এমআরটি লাইন-৬-এর স্টেশনগুলোতে পর্যায়ক্রমে চালু হবে জোবাইকের বাইসাইকেল সেবা।ডিএমটিসিএলের উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নিয়ে কার্যাদেশ পাওয়ার পর গত ৬ আগস্ট দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।প্রথম ধাপে উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা দক্ষিণ—এই তিনটি মেট্রো স্টেশনে ১৫০ থেকে ৩০০টি প্যাডেল বাইসাইকেল নিয়ে ছয় মাসের পাইলট প্রকল্প চালু করবে জোবাইক। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে পার্কিং হাবের সংখ্যা বাড়ানো হবে। পাইলট প্রকল্প সফল হলে এমআরটি লাইন-৬-এর অন্যান্য স্টেশনেও সেবাটি সম্প্রসারণ করা হবে।জোবাইকের এই উদ্যোগে উত্তরা রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্ট (আরইউএপি) ও উত্তরা রূপায়ণ সিটির বাসিন্দা, মেট্রো ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এবং শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ডব্লিউইউবি) ও বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।সেবাটি ব্যবহারের প্রক্রিয়াও রাখা হয়েছে সহজ। যাত্রীরা মেট্রো স্টেশনের নির্ধারিত পার্কিং এলাকা অথবা কাছাকাছি জোবাইক হাব থেকে অ্যাপের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে বাইসাইকেল আনলক করতে পারবেন। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত যেকোনো জোবাইক পার্কিং স্থানে বাইসাইকেল রেখে দেওয়া যাবে।প্রতিটি রাইডে আনলকিং ফি ২ টাকা এবং প্রতি মিনিটের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ টাকা।
জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেদী রেজা বলেন, ‘প্রতিদিন প্রায় চার লাখ মানুষ মেট্রো রেলে যাতায়াত করেন, যা একটি বিশাল সংখ্যা। কিন্তু স্টেশন থেকে বের হয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর ফার্স্ট-মাইল ও লাস্ট-মাইল যাতায়াতে রিকশা ছাড়া আমাদের পর্যাপ্ত কোনো ব্যবস্থা ছিল না। জোবাইক এখানে স্বাস্থ্যকর, সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী একটি বিকল্প পরিবহন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে যাত্রীরা এই বাইসাইকেল ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরাসরি অবদান রাখতে পারবেন।’
ঢাকার নগর পরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শহরে এখনও পর্যাপ্ত সাইকেল লেন নেই। একটি বাইসাইকেল-বান্ধব নগরী গড়ে তোলার পাশাপাশি যানজট ও পরিবেশ দূষণের মতো প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আমরা সরকারের কাছে ডেডিকেটেড সাইকেল লেন তৈরির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’
জোবাইকের জন্য এই উদ্যোগকে বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানো হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ২০১৮ সালে কক্সবাজার থেকে পরিবেশবান্ধব স্মার্ট রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চলতি বছরের জুনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ই-বাইক সেবা চালুর মাধ্যমে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করে জোবাইক। এরই ধারাবাহিকতায় এবার রাজধানীর মেট্রোরেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বড় পরিসরে ফিরছে প্রতিষ্ঠানটি।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ডিএমটিসিএলের জেনারেল ম্যানেজার নাসির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মার্কেটিং ম্যানেজার মো. ওসমান গনি ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার রাকিবুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। জোবাইকের পক্ষে ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মেহেদী রেজা, বিজনেস ডিরেক্টর শরীফ খান এবং হেড অব অপারেশনস শাহ নেওয়াজসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।