ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

মজলুমের জায়গা থেকে জালিম হলে ছাড় নয়: রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিব

প্রকাশ: ১৭:০৮, ৭ আগস্ট ২০২৬

মজলুমের জায়গা থেকে জালিম হলে ছাড় নয়: রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিব

ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, দলীয় নেতাকর্মীদের কেউ অতীত ভুলে মজলুমের জায়গা থেকে জালিম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। ত্যাগী নেতা হলেও কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

শুক্রবার মুগদা মদিনাবাগে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মুগদা থানা স্বেচ্ছাসেবক দল এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর বাংলাদেশে কোনো গণতান্ত্রিক সরকার ছিল না, মানুষের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত কোনো সরকার ছিল না। আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হওয়ায় জনগণের কাছে তাঁদের জবাবদিহিতা রয়েছে।

তিনি বলেন, এমন কাজ করতে হবে, যাতে জনগণ সুন্দর ও নিরাপদে থাকতে পারে এবং উপকৃত হয়। বাংলাদেশের মালিক কোনো দল নয়, ১৮ কোটি মানুষ। জনগণের কেউ দুঃখ-দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়ালে, সে যতই ত্যাগী নেতাকর্মী হোক, তাকে দল থেকে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।

মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘আমরা একটি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ চাই, আমরা মাদকমুক্ত ঢাকা চাই। আমরা এলাকার মানুষের শান্তি-শৃঙ্খলা চাই, আমরা নিরাপদ একটি এলাকা চাই।’

তিনি বলেন, এলাকার যত মাদক স্পট আছে, সেখানে যারা জড়িত, দলের মহিলা দলের নেত্রী হোক বা বিএনপির নেতা হোক—কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো নেতা বা কেউ তাঁদের আটকের ক্ষেত্রে বাধা দিলে তা প্রকাশ্যে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানান হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কাজই হচ্ছে স্বেচ্ছায় মানুষের সেবা করা। তাই উদ্বোধনের পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ করতে হবে। এ কাজে সহযোগিতা প্রয়োজন হলে তিনি পাশে থাকার কথা জানান।

গ্যাসের সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সারা বাংলাদেশেরই সমস্যা। বিগত সময়ে গ্যাস উত্তোলনে কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাপেক্সকে নতুনভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং নতুন করে গ্যাসকূপ খননের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ জন্য সময় দিতে হবে।

এলাকার গ্যাসের সমস্যা নিয়ে তিনি গ্যাসের এমডিকে বারবার ফোন করেন জানিয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, প্রয়োজনে এ বিষয়ে বসে আলোচনা করা হবে। সমস্যার কতটুকু সমাধান করা যাবে, তা জানেন না, তবে আন্তরিকতার কোনো অভাব থাকবে না।

এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুগদা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০০ থেকে ১ হাজার করা হয়েছে। জনবল ও ওষুধ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। খালগুলো পরিষ্কার করে দুই পাশে ওয়াকওয়ে করার জন্য কাজ চলছে।

তিনি বলেন, সরকারের বয়স পাঁচ মাস। মানিকনগর, ধলপুর ও মুগদা হাসপাতালের সামনের রাস্তাসহ বিভিন্ন রাস্তার জন্য বারবার চেষ্টা করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে এনে কাজ করা হচ্ছে। অন্যান্য ওয়ার্ড ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বরাদ্দের জন্যও চেষ্টা করা হচ্ছে।

হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘আমরা বক্তৃতা নয়, কাজের মাধ্যমেই জনগণের পাশে থাকতে চাই।’ দলীয় নেতাকর্মীদের ভালো কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভালো কিছু করতে না পারলে বিরত থাকতে হবে। তাঁদের কথা, আচরণ ও কাজে যাতে মানুষ সন্তুষ্ট থাকে, সেই কাজ করতে হবে।

তিনি জুলাইয়ের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতার শহীদদের, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ ও গুম হওয়া নেতাকর্মীদের স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘এই এলাকার নেতা আমরা সবাই, এই এলাকার কর্মী আমরা সবাই। এই এলাকার জনগণকে সবচেয়ে আগে প্রায়োরিটি দিতে হবে।’ বাংলাদেশের মালিক জনগণ এবং তাঁরা জনগণের সেবক হিসেবে জবাবদিহিতার মধ্যে থেকে কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন