শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:০৯, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:০৯, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের দাবির মুখেই রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন অভিমুখে কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেন, কোনও গণআন্দোলন কারও একক নেতৃত্বে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
আম্মারের ভাষায়, ‘কোনও গণআন্দোলন কারও একক নেতৃত্বে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে আমার যতটুকু দায়িত্ব, তা আমি পালন করেছি। এই আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের আবেগের সঙ্গে জড়িত। আমি না থাকলেও তারা স্টেশনমুখী হতো। তবে তারা যখন জানতে চায় আমরা কেন স্টেশনে যাচ্ছি না, তখন তাদের দাবির মুখেই আমি কর্মসূচির ঘোষণা দিই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা আগে (১১টা ৩৫-এর দিকে) চারুকলা থেকে রাজশাহী স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হই। এই বিশাল ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা অন্য কারও পক্ষে সম্ভব ছিল না। শিক্ষার্থীদের এই অনুভূতির বাইরে যাওয়া অসম্ভব। এখানে কোনও একক নেতৃত্ব দেয়ার বিষয় ছিল না, শিক্ষার্থীদের চাওয়াকে আমলে নেয়াই ছিল আমার কাজ।
রাকসু জিএস আরও বলেন, স্টেশনে ভাঙচুর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আটকানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে। একটা পর্যায়ে যখন পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয় এবং আমাদের দুই শিক্ষার্থীর গায়ে পাথর লাগে, তখন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল এবং পরে রাজশাহী মেডিকেলে নেয়ার ব্যবস্থা করি। সেখানে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং আরেকজনকে রিলিজ দেয়া হয়েছে।
আম্মার বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের ছেড়ে চলে যাইনি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত থেকেছি। রেল পুলিশ ও আনসার অফিসসহ যেখানে যেখানে শিক্ষার্থীরা গিয়েছিল, সব জায়গায় ব্যক্তিগতভাবে গিয়ে তা থামানোর চেষ্টা করেছি। অবশেষে একদম শেষ টিমটি নিয়ে ভোর ৫টার দিকে বাসায় ফিরেছি। পুরো আন্দোলনে কোনও সাধারণ মানুষ বা ট্রেনের কোনো ক্ষতি হতে দেয়া হয়নি। আমরা যে আশঙ্কা করছিলাম—অন্য কোনো পক্ষ যাতে সুযোগ নিয়ে ট্রেনে আগুন না দেয়—সেটা রুখে দেয়া সম্ভব হয়েছে।’
উল্লেখ্য, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ৯ টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের কর্মচারী কর্তৃক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রেলপথ অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন পরে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে ভাঙচুর করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।