শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১:১২, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৩, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কাশিয়ানীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি ঘিরে অনিয়ম ও দখল-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একই জমি একাধিক ব্যক্তির নামে লিজ, নামমাত্র লিজ, এক ব্যক্তির নামে একাধিক জমি বরাদ্দ, লিজের শর্ত ভেঙে স্থাপনা নির্মাণ এবং অবৈধ দখলের মাধ্যমে রেলের মূল্যবান ভূ-সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এসব অনিয়মে রেলওয়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে।
রেলের যথাযথ তদারকি না থাকায় সরকারি সম্পত্তি একদিকে বেহাত হচ্ছে, অন্যদিকে রেলের প্রকল্পের জন্য জমি দিয়ে পরিবারগুলো লিজ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাতইল ইউনিয়নের চাপ্তা গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব কৃষক শহিদুর রহমান সরদার ২০১২ সালে রেলপথ প্রকল্পের জন্য নিজের ৩৪ শতাংশ জমি সরকারের কাছে হস্তান্তর করেন। ভিটেবাড়ির পাশে থাকা রেলের অব্যবহৃত জায়গায় চাষাবাদ ও ফলদ গাছ লাগিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন তিনি। ওই জমি লিজ পেতে তার স্ত্রী রহিমা বেগম ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কার্যালয়ে আবেদন করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আবেদনটি নিষ্পত্তি না করেই মাত্র দুই মাসের মধ্যে জমিটি সিরাজুল ইসলাম নামে অপর এক ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। শহিদুরের অভিযোগ, জমি দখলের সময় বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয় এবং তার লাগানো ফলদ গাছ কেটে ফেলা হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, চাপ্তা এলাকায় রেললাইনের পাশের প্রায় ১০ বিঘা জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে নিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম। প্রভাব ও হুমকির কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে পারছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সরকারি নিয়ম মেনেই জমি লিজ নিয়েছি। লিজকৃত জমির গাছ কাটার বিষয়ে আমার বৈধ অধিকার রয়েছে। আমি আরও জমিজুড়ে প্রকল্প করব।’ অন্যদিকে, ভাদুলিয়া মৌজার ১২৯৯ নম্বর দাগের ০.২৪ একর জমি নিয়ে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। ঘোনাপাড়ার গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস ২০২৪ সালে জমিটি লিজ নেওয়ার পর একই জমি গ্লোরিয়া বিশ্বাস মধু নামে আরেকজনকে লিজ দেয় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী ভূ-সম্পত্তি দপ্তর। এক জমির দুই লিজকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, মামলা ও পুলিশি হয়রানির ঘটনাও ঘটে। শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় গোপাল বিশ্বাসের ছোট ভাই নিতাই বিশ্বাসকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি উপজেলা কৃষি অফিসে ‘স্প্রে মেকানিক’ পদে চাকরি করতেন। এভাবে একের পর এক অভিযোগে রয়েছে রেলের জমি রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে এবং লিজ বাতিল করা হবে।’