ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ ও জামালপুর-ইব্রাহিমাবাদে তিন জোড়া লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বিপুলসংখ্যক যাত্রী

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১:৪৯, ৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৯, ৪ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ ও জামালপুর-ইব্রাহিমাবাদে তিন জোড়া লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বিপুলসংখ্যক যাত্রী

দীর্ঘদিন ধরে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ ও জামালপুর-ইব্রাহিমাবাদ রেলপথে তিন জোড়া লোকাল ও মেইল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বিপুলসংখ্যক যাত্রী। ট্রেনগুলো বন্ধ থাকায় বিভিন্ন রেলস্টেশনে দিনে ও রাতের বেশিরভাগ সময় এখন বিরাজ করে সুনসান নীরবতা। ইঞ্জিন সংকটের কারণে ট্রেনগুলো বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এই ট্রেনগুলো বন্ধ থাকায় স্টেশন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মজীবী মানুষদের আয় রোজগারও কমে গেছে। 

ট্রেনগুলো চালু থাকা অবস্থায় দিন-রাত স্টেশনগুলো যাত্রীদের পদচারণে সরগরম থাকলেও এখন বেশিরভাগ সময় প্ল্যাটফর্মগুলো প্রায় যাত্রী শূন্য থাকছে। কয়েক বছর আগেও হকারদের হাঁকডাক ও যাত্রীদের উপস্থিতিতে প্ল্যাটফর্মগুলো সরগরম থাকলেও এখন চিত্র ভিন্ন।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী ৫৫ নং আপ ও ৫৬ নং ডাউন ভাওয়াল এক্সপ্রেস, ময়মনসিংহ থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী ৩৫৫ নং আপ ও ৩৫৬ নং ডাউন দেওয়ানগঞ্জ লোকাল এবং ময়মনসিংহ থেকে ইব্রাহিমাবাদ স্টেশন পর্যন্ত চলাচলকারী ৭৫ নং আপ ও ৭৬ নং ডাউন ধলেশ্বরী এক্সপ্রেস।

জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন প্ল্যাটফর্মে কর্মরত কুলি বাদল মিয়া, বদুয়া, খায়ের ও আইয়ুব আলী বলেন, বন্ধ থাকা ট্রেনগুলো যখন চলাচল করত তখন আমাদের কাজের অনেক ব্যস্ততা থাকত। তখন আমাদের উপার্জনও বেশ ভালো ছিল। কিন্তু ট্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমরা প্রায় সারা দিনই অলস বসে থাকি। বন্ধ ট্রেনগুলো পুনরায় চালু করার দাবি জানান নিম্ন আয়ের এই মানুষগুলো।

জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন পণ্যের বিক্রেতা হকার ফারুক, হোসেন, রবি ও শামছুল বলেন, ট্রেনগুলো যখন চলাচল করত তখন স্টেশন প্ল্যাটফর্মগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতি খুব বেশি ছিল। তখন আমরা অনেক ধরনের পণ্য প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করতে পারতাম। আমাদের আয় রোজাগারও তখন বেশ ভালো ছিল। কিন্তু ট্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে প্ল্যাটফর্মগুলো বেশিরভাগ সময়েই ফাঁকা থাকছে। তাই আমাদের বেচা-বিক্রি একদমই কমে গেছে। সারা দিনে যা বিক্রি করি তা দিয়ে আমাদের সংসার খরচই চলে না। তাই তারা বন্ধ ট্রেনগুলো পুনরায় চালু করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, জামালপুর জেলার অন্তর্গত বিভিন্ন স্টেশনে চলাচলের জন্য এই ট্রেনগুলো ছিল দরিদ্র শ্রেণির যাত্রীদের একটি সহজ বাহন। তা ছাড়া এই ট্রেনগুলো ময়মনসিংহ-জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ ও ময়মনসিংহ-জামালপুর-ইব্রাহিমাবাদ রেলপথে অসংখ্য স্টেশনে নিয়মিত যাত্রা বিরতি দিত। এতে করে জেলার প্রতিটি অঞ্চলেই খুব সহজেই কম খরচে যাত্রীরা চলাচল করতে পারতেন। ট্রেনগুলো বন্ধ থাকায় এখন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাত্রীদের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। তা ছাড়া সড়ক পথের চেয়ে রেলপথ খুবই নিরাপদ ও আরামদায়ক। তাই তিনি যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে বন্ধ থাকা ট্রেনগুলো পুনরায় চালু করার দাবি জানান।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন