ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

দিনে মাত্র ১৪ মিনিট ট্রেনের স্টপেজ, বাকি সময় কিশোর গ্যাংয়ের দখলে আঁড়িখোলা রেলস্টেশন

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২:১৮, ৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০২:১৮, ৫ অক্টোবর ২০২৬

দিনে মাত্র ১৪ মিনিট ট্রেনের স্টপেজ, বাকি সময় কিশোর গ্যাংয়ের দখলে আঁড়িখোলা রেলস্টেশন

ঢাকা-ভৈরব রেললাইনের গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার আঁড়িখোলা রেলস্টেশন। প্রায় অর্ধশত ট্রেনের মধ্যে মাত্র সাতটি ট্রেনের দুই মিনিট করে স্টপেজ আছে এখানে।

ফলে ২৪ ঘণ্টায় ১৪ মিনিট ব্যবহৃত এই স্টেশনের বাকি সময় কিশোর গ্যাংয়ের দখলে থাকে।

 

রবিবার (৪ অক্টোবর) এই তথ্য পাওয়া যায়।

সরেজমিনে জানা যায়, ঢাকা-ভৈরব রেললাইনে গাজীপুরের কালীগঞ্জের আঁড়িখোলা রেলস্টেশন অনেক পুরাতন। যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের আগে স্থলপথে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল ট্রেন।

কালীগঞ্জ ও আশপাশ এলাকাসহ দূর-দূরান্ত থেকে অনেক যাত্রী গন্তব্যে যাতায়াত করতে  আঁড়িখোলা রেলস্টেশনে আসতেন। সড়ক যোগাযোগ সহজতর হওয়ার কারণে মানুষের যাতায়াত ট্রেনে কমে গেছে। ফলে এই স্টেশনেও যাত্রীদের ভিড় নেই। এ ছাড়া দৈনিক ৪৪ থেকে ৪৮টি ট্রেনের মধ্যে মাত্র সাতটি ট্রেন আঁড়িখোলা রেলস্টেশনে থামে।
প্রতিটি ট্রেন দুই মিনিট করে থামার কারণে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ১৪ মিনিট যাত্রী থাকে স্টেশনে। বাকী সময় ফাঁকাই থাকে বলা যায়। এই ফাঁকা সময়ে দলবেঁধে উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরা স্টেশনে আড্ডা দেয়। এদের মধ্যে বেশ কিছু মোটরসাইকেল প্ল্যাটফর্মে রেখে স্টেশন এলাকায় বিচরণ করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের পোশাক পড়া ছেলে-মেয়েদেরও দেখা গেছে প্ল্যাটফর্মে আড্ডা দিয়ে সময় কাটাতে।

 

স্টেশনে জাল মুড়ি বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যাত্রী খুব কম। বাইরের ছেলে-মেয়েরাই কাস্টমার। নাম লেখলে দোকান করতে পারব না।

স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানান, দৈনিক ৪৪ থেকে ৪৮টি ট্রেন এই লাইনে যাতায়াত করলেও ৭টি ট্রেনের স্টপেজ আছে এখানে। স্টপেজ থাকা ট্রেনগুলো হলো, ঢাকাগামী ঢাকা মেইল, তিতাস কমিউটার, নরসিংদী কমিউটার ও কর্ণফুলি কমিউটার। আর চট্টগ্রাম অভিমুখী কর্ণফুলী কমিউটার, ভৈরবগামী নরসিংদী কমিউটার ও আখাউড়া অভিমুখী তিতাস কমিউটার। এসব ট্রেনে আঁড়িখোলা রেলস্টেশনে দৈনিক তিন শ’র মতো যাত্রী উঠানামা করে। 

এর মধ্যে ১৫০/১৬০ জন যাত্রী টিকিট কাটে। বাকীরা টিকিট ছাড়াই যাতায়াত করে। এতে দৈনিক দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়। সব যাত্রীকে টিকিটের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় টিকিট চেক করাও সম্ভব হয় না। এই স্টেশনে তিনজন স্টেশন মাস্টার, চারজন পয়েন্সম্যান, তিনজন গেটম্যানসহ ১০ জন স্টাফ ও একজন ক্লিনার আছে।

আঁড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. আরমান হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, যাত্রী ছাড়া আড্ডা দেওয়া লোকদের কিছু বলা যায় না, রেগে যায়। এ ছাড়া লোকবল কম থাকায় আমরাও কিছু করতে পারি না।

আঁড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, আমার স্টাফ মাত্র ১৮ জন। এত বড় এলাকায় ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। লোকবল বাড়ালে সব কিছু করা সম্ভব হতো। আঁড়িখোলা রেলস্টেশনে বখাটেদের উৎপাত সম্পর্কে শুনেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, টহল আরো জোরদার করা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন