শিরোনাম
মুহাম্মাদ মুছা, বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১:০৭, ৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৪, ৩ অক্টোবর ২০২৬
গ্রাফিক্স
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি দপ্তরের ফিল্ড কানুনগো মো. জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে রেলের জমি ইজারা, রাজস্ব আদায় ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত থাকার সুযোগে রেলের বিভিন্ন জমি ইজারা ও রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে তিনি আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ফিল্ড কানুনগো পদে প্রায় ২০ বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন জিয়াউল হক। ঢাকা বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি দপ্তরে কর্মরত অবস্থায় রেলের জমি বিভিন্নভাবে ইজারা ও হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
প্রাপ্ত নথিপত্র ও অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন মাহমুদের স্বাক্ষরিত ২০২৫ সালের ২০ মে ও ২০ আগস্টের চিঠির ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ, গফরগাঁও ও শ্রীপুর এলাকায় রেলের জমি প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৮ জুন কৃষি হিসেবে ওই জমির রাজস্ব আদায় করেন ফিল্ড কানুনগো জিয়াউল হক।
অভিযোগকারীদের দাবি, শ্রীপুরের আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে একসঙ্গে ২৫ বছরের কৃষি লিজের রাজস্ব গ্রহণ করা হয়েছে, যা রেলের প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একইভাবে টঙ্গীর আরিজপুর ব্রিজসংলগ্ন রেলের প্রায় ৭ হাজার বর্গফুট বা ১৬ শতাংশ জমির ১৯৯০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৩৪ বছরের রাজস্ব একসঙ্গে গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে।
এ ছাড়া কারওয়ান বাজার মাছের আড়ত এলাকায় রেলের কৃষিজমি বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে ওই ইজারা বাতিল করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার চাষাঢ়া থেকে আদমজী সাইডিং লাইন ও গোদনাইল মৌজায় কৃষি লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে কৃষি লাইসেন্সের আওতায় বাণিজ্যিক স্থাপনা ও মার্কেট গড়ে ওঠার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
তাদের দাবি, রেলের জমি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং এর ফলে সরকার যথাযথ রাজস্ব পেয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী অবস্থানে থেকে বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ৫ আগস্টের পরও অসাধু কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে তিনি একই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জিয়াউল হকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি রেলনিউজ কে বলেন, যারা কাজ করে তাদেরই ভুল ত্রুটি হয়। আমি যে ডিপার্টমেন্টে কাজ করি সেখানে ভুল ত্রুটি থাকবেই। সব অভিযোগ মিথ্যা আমি তা বলবো না। ডিপার্টমেন্ট তদন্ত করুক, তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক। যারা আমার বিরুদ্ধে লেগেছে তাদের বিষয়গুলোও তদন্ত করুন।
ঢাকা বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা গত বৃহস্পতিবার বলেন, আজকেই আমার শেষ কর্মদিবস।নতুন দায়িত্বে যিনি আসছে তিনি আশাকরি বিষয়টি দেখবেন। অভিযোগ থাকলে আর প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযোগগুলো শুনে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন রেলনিউজকে বলেন, শুধু জিয়াউল হক নয়, যে কোন কর্মকর্তার ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি। অভিযোগ প্রমানিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর জাতীয় দৈনিক ‘সরেজমিন’-এ জিয়াউল হককে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নথিতে বলা হয়, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করতে হবে। ওই ব্যাখ্যা তলবের নথিটি বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পূর্বে কর্তৃপক্ষের নজরে আসার একটি দলিল হিসেবেও সামনে এসেছে। তবে সে বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিভাগীয় কর্মকর্তা। ধরাছোঁয়ার বাইরে এভাবে অনিয়ম দুর্নীতি করে যাচ্ছেন জিয়াউল হক
সচেতন মহলের দাবি, রেলের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জিয়াউল হকের দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত থাকার বিষয়টি, ইজারা সংক্রান্ত নথিপত্র, রাজস্ব আদায়ের হিসাব, সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, জিয়াউল হকের নামে ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে কথিত অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টিও তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে এ ধরনের সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট নথি বা প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া গেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
রেলের সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
রেল স্টেশন কি শুধুই রেলের স