শিরোনাম
প্রকাশ: ০৩:২২, ১১ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০৩:২৩, ১১ আগস্ট ২০২৬
দেশব্যাপী চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এ ধরনের ঘটনার ফলে যাত্রীদের জীবন নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে, রেল চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে।
রেলওয়ের দীর্ঘদিনের লোকবল সংকটের কারণে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পর্যাপ্তভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বাস্তবতা থেকে রেলওয়ের স্থায়ী চাকরিজীবী সন্তানদের উদ্যোগে গঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি (২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত) রেলওয়ের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি, বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ প্রতিরোধ, স্টেশন এলাকায় ধূমপান নিষিদ্ধকরণ এবং বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ যে দণ্ডনীয় অপরাধ—এ বিষয়ে দেশব্যাপী জনসচেতনতা কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন বগুড়া থেকে করা হয়।
এ উপলক্ষে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় মানববন্ধন ও হ্যান্ডবিল বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাজেদুর রহমান সাজু, বগুড়া রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি), বগুড়া রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সান্তাহার শাখার আহ্বায়ক মশিউর রহমান মাখন এবং বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ইমাম হোসেন রকি।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মামুনুর রশিদ সাদ্দাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবীব, ক্রীড়া সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, মহিলা সম্পাদিকা সাদিয়া আক্তার লিজা, কার্যকরী সদস্য আল-রাব্বি, কাওছার, বিপ্লব, জুয়েল, শামীম, রবি এবং সংগঠনের আরও অসংখ্য সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ শুধু একটি দুষ্টামি নয়, এটি একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যাত্রী আহত বা নিহত হতে পারেন, ট্রেনের জানালা, কোচ ও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি হয় এবং রেলওয়ের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জননিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে এ বিষয়ে সচেতন করতে ধারাবাহিক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির নেতারা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় পর্যায়ক্রমে মানববন্ধন, হ্যান্ডবিল বিতরণ, পথসভা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে রেলপথ ও ট্রেনকে নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে তাদের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।