ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

মানবিকতায় অনন্য শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশন: স্টেশন মাস্টারের তৎপরতায় উদ্ধার হারানো শিশু"

স্বপন কুমার সিং, হবিগঞ্জ সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২২:৫৩, ৩ জুন ২০২৬

মানবিকতায় অনন্য শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশন: স্টেশন মাস্টারের তৎপরতায় উদ্ধার হারানো শিশু

স্টেশন মাস্টার লিটন চন্দ্র দে ও সহকারী স্টেশন মাস্টার মাহফুজুর রহমান আজমানের তৎপরতায় পরিবারের কাছে ফিরল হারিয়ে যাওয়া শিশু। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্টেশন মাস্টার লিটন চন্দ্র দে এবং সহকারী স্টেশন মাস্টার মোঃ মাহফুজুর রহমান আজমান। তাদের তাৎক্ষণিক ও বিচক্ষণ পদক্ষেপে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই পরিবারের কাছে ফিরে যায় হারিয়ে যাওয়া এক কন্যাশিশু।
বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে এসে পৌঁছালে ট্রেনের একটি বগিতে প্রায় ৭ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে একা বসে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে স্টেশন মাস্টার লিটন চন্দ্র দে ও সহকারী স্টেশন মাস্টার মাহফুজুর রহমান আজমান শিশুটিকে নিরাপদে স্টেশন মাস্টারের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে তাঁরা দ্রুত স্টেশনের মাইকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শিশুটির বিষয়ে ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ট্রেনটি সাময়িক সময়ের জন্য থামিয়ে রেখে শিশুটির অভিভাবকদের খোঁজার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাঁদের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত ও মানবিক উদ্যোগের ফলে সম্ভাব্য একটি বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
মাইকিং শোনার পর উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা দ্রুত স্টেশন মাস্টারের কার্যালয়ে এসে শিশুটিকে শনাক্ত করেন। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত যাত্রী ও স্থানীয়রা রেলওয়ের দুই কর্মকর্তার দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের এমন চর্চা সমাজের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্টেশন মাস্টার লিটন চন্দ্র দে এবং সহকারী স্টেশন মাস্টার মাহফুজুর রহমান আজমানের এই উদ্যোগ শুধু একটি শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নয়।  এটি দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও জনসেবার এক অনুকরণীয় উদাহরণ।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দেশের অন্যান্য রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও এ ধরনের মানবিক আচরণ থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের সেবায় আরও আন্তরিক ভূমিকা পালন করবেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন