শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯:৪১, ৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪১, ৩ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার আকাঙ্ক্ষা কোনো অপরাধ নয়। যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে যে কেউ মহাপরিচালক (ডিজি) হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো- যারা রেলওয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তারা কি সত্যিই রেলওয়ে পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, নাকি তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পথেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন?
আজ বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ- অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের জিএম, ডিআরএম এবং সর্বোপরি ডিজির পদকে কেন্দ্র করে যে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দৃশ্যমান, তা শুধু প্রশাসনিক পরিবেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না; এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রেলওয়ে পরিবারের অধিকার বঞ্চিত সন্তানদের জীবনেও।
অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, রেলওয়ে পরিবারের সদস্যদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে মহামান্য হাইকোর্ট ও সর্বোচ্চ আদালতের রায় থাকার পরও কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা সেই রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ তারাই আবার নিজেদেরকে রেলওয়ের ভবিষ্যৎ অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।
রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হলেও এর ভেতরে রয়েছে একটি বৃহৎ পারিবারিক বন্ধন। হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবার মিলে গড়ে উঠেছে এই রেলওয়ে পরিবার। সেই পরিবারের সন্তানদের ন্যায্য অধিকারকে অস্বীকার করে, আদালতের রায় বাস্তবায়নে বাধা দিয়ে কেউ যদি নেতৃত্বের দাবিদার হন, তবে সেই নেতৃত্বের নৈতিক ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
একজন প্রকৃত অভিভাবক কখনো নিজের সন্তানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন না। একজন পিতা তার সন্তানের অধিকার হরণ করে যেমন সম্মান অর্জন করতে পারেন না, তেমনি রেলওয়ে পরিবারের সন্তানদের ন্যায়সংগত দাবি অস্বীকার করে কোনো কর্মকর্তা প্রকৃত অর্থে রেলওয়ের অভিভাবক হওয়ার নৈতিক যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন না।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই- আমাদের অবস্থান কোনো ব্যক্তি, কোনো গ্রুপ কিংবা কোনো পদপ্রত্যাশী কর্মকর্তার পক্ষে নয়। আমাদের অবস্থান প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, আইনের শাসন, আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রেলওয়ে পরিবারের অধিকার বঞ্চিত সদস্যদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে।
অতএব, মহাপরিচালকের চেয়ার দখলের প্রতিযোগিতা নয়; আগে প্রমাণ করুন আপনি রেলওয়ে পরিবারের প্রকৃত অভিভাবক। আদালতের রায় বাস্তবায়ন করুন, পোষ্যদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করুন এবং রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির বিরুদ্ধে চলমান সকল ধরনের ষড়যন্ত্র ও প্রতিবন্ধকতা বন্ধ করুন।
কারণ ইতিহাস পদ-পদবী মনে রাখে না; ইতিহাস মনে রাখে কে ন্যায়ের পক্ষে ছিল আর কে অন্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিল।