শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩:৩২, ১৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৩২, ১৮ মে ২০২৬
বেনাপোল-খুলনা রুটের ‘বেতনা কমিউটার’ ও বেনাপোল-মোংলা রুটের ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ইজারা বাতিলের পর নতুন করে উঠেছে আয়ের বড় ধরনের গরমিলের প্রশ্ন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন পরিচালনার মাত্র ১২ দিনের হিসাবেই দেখা গেছে আয় কমেছে লক্ষণীয়ভাবে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—প্রতিদিনের অর্ধলক্ষাধিক টাকা যাচ্ছে কার পকেটে?
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মিরপুরভিত্তিক ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’ তিন বছরের জন্য ট্রেন দুটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিল। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটি ট্রেন পরিচালনা শুরু করে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রেনের ভাড়া, ভ্যাট ও উৎস করের বকেয়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ২৭ এপ্রিল চুক্তি বাতিল করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইজারা বাতিলের আগে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১২ দিনে ট্রেন দুটির মোট আয় হয়েছিল ২০ লাখ ১৬ হাজার টাকা (ভ্যাট-ট্যাক্সসহ)। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে আয় ছিল প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। শুধু টিকিট বিক্রি থেকেই দৈনিক আয় হতো প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ২২৭ টাকা।
কিন্তু ইজারা বাতিলের পর সরকারি ব্যবস্থাপনায় একই ট্রেন দুটি পরিচালনার ১২ দিনের হিসাব বলছে ভিন্ন কথা। এই সময়ে মোট আয় হয়েছে মাত্র ১০ লাখ ৯৯ হাজার ২৪০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে আয় দাঁড়ায় প্রায় ৯১ হাজার ৬০০ টাকায়।
দুই হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার পর প্রতিদিন আয় কমেছে প্রায় ৭৬ হাজার টাকারও বেশি(ভ্যাট-ট্যাক্সসহ)। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা।
রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, যাত্রীসংখ্যা কমেনি, বরং বেনাপোল রুটে পাসপোর্টধারী যাত্রীর চাপ আগের মতোই রয়েছে। বিশেষ করে ভারতগামী যাত্রীদের বড় অংশ এই কমিউটার ট্রেন ব্যবহার করেন। তাহলে আয় কমার পেছনে কারণ কী?
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারি ব্যবস্থাপনায় টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম, বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি এবং তদারকির অভাবের কারণেই এই বিপুল রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। অনেকের মতে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যেখানে প্রতিদিন ভ্যাট-ট্যাক্সসহ আয় ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, সেখানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তা এক লাফে এত কমে যাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। না হলে প্রতিদিনের এই অর্ধলক্ষাধিক টাকার গরমিল ভবিষ্যতে আরও বড় অনিয়মের জন্ম দিতে পারে।
এখন প্রশ্ন একটাই—
বেতনা ও মোংলা কমিউটারের প্রতিদিনের অর্ধলক্ষাধিক টাকা যাচ্ছে কার পকেটে?