ঢাকা, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

২২ চৈত্র ১৪৩২, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৭

রেলওয়ের সংকট, অনিয়ম, দুর্নীতি ও দূর্ঘটনার কারণ নিয়ে ২৮ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবে সংলাপ

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১:৫৪, ৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২২:০০, ৪ এপ্রিল ২০২৬

রেলওয়ের সংকট, অনিয়ম, দুর্নীতি ও দূর্ঘটনার কারণ নিয়ে ২৮ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবে সংলাপ

বাংলাদেশ রেলওয়ের চলমান সংকট, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে আগামী ২৮ এপ্রিল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব–এর ভিআইপি লাউঞ্জে একটি সংলাপ ও সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এ আয়োজনের সভাপতিত্ব করবেন মোঃ মনিরুজ্জামান মনির, যিনি বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি–এর সভাপতি।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের দীর্ঘদিনের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও নীতিগত দুর্বলতার বিষয়গুলো এই সংলাপে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে রেলওয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে একটি সংস্কার প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হতে পারে। ইতোমধ্যে এই আয়োজনকে ঘিরে রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।রেলওয়ের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প গ্রহণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে অস্বচ্ছতা, অদক্ষতা এবং কমিশন বাণিজ্যের কারণে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই না করেই প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং পরে তা সংশোধন করে ব্যয় বাড়ানো হয়, যার ফলে উন্নয়নের আড়ালে অর্থ লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি হয়।সংলাপে রেলওয়ের নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে। অভিযোগ রয়েছে, মেধা ও দক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে বদলি বা ট্রান্সফারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কথিত “বদলি বাণিজ্য” নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।এক সময় রেলওয়ের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা দেশের অন্যতম উন্নত ব্যবস্থার মধ্যে ছিল। কিন্তু বর্তমানে রেলওয়ে পরিচালিত স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালগুলোতে অবকাঠামোগত সংকট, জনবল ঘাটতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে সেই ব্যবস্থার অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংলাপে এই খাতগুলো পুনর্গঠনের জন্য কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের দাবি জানানো হতে পারে।

এ ছাড়া রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি দীর্ঘদিন ধরে দখলদারদের কবলে চলে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসবে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ের জমি লিজ দেওয়ার নামে প্রভাবশালী মহলের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে রেলওয়ের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।রেলওয়ের অনবোর্ড সার্ভিস খাতেও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীসেবার নামে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, নিম্নমানের সেবা প্রদান এবং রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। এসব অনিয়ম বন্ধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও সংলাপে তুলে ধরা হতে পারে।

এছাড়া রেলওয়ের প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ, বদলি, টেন্ডার এবং বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় রেলওয়ের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংলাপ ও সাংবাদিক সম্মেলনে রেলওয়ের বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকবেন। তাদের আশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান সংকটের বাস্তব চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে একটি কার্যকর সংস্কার রোডম্যাপ প্রণয়নের পথ উন্মুক্ত হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন