ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

৩ বৈশাখ ১৪৩৩, ২৯ শাওয়াল ১৪৪৭

জনবল সংকটে বিপর্যস্ত পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে, বন্ধ হচ্ছে একের পর এক স্টেশন

মো: মোতাহার হোসেন সরকার( স্টাফ রিপোর্টার)।

প্রকাশ: ২২:২০, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২২:২১, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

জনবল সংকটে বিপর্যস্ত পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে, বন্ধ হচ্ছে একের পর এক স্টেশন

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা এখন তীব্র জনবল সংকট। দীর্ঘদিনেও এই সংকট কাটিয়ে উঠতে না পারায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পাকশী ও লালমনিরহাট রেল বিভাগের অধীনে থাকা ২৭৩টি স্টেশনের মধ্যে ইতোমধ্যে ৬৭টি স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি স্টেশন বন্ধ হওয়ার তালিকায় রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে স্টেশন মাস্টার পদে। পশ্চিমাঞ্চলে স্টেশন মাস্টার, সহকারী স্টেশন মাস্টার, প্ল্যাটফর্ম মাস্টার ও কেবিন স্টেশন মাস্টার মিলিয়ে মোট ৯৭৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৩৩ জন। ফলে ৬৪২টি পদ শূন্য রয়েছে। একইভাবে অন্যান্য পদেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। গার্ড পদের ২৩৫ জনের মধ্যে কর্মরত ২০২ জন, গেটকিপার পদের ৬৫৪ জনের মধ্যে মাত্র ১৬৩ জন এবং পয়েন্টসম্যান পদের ৯৩৬ জনের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৬৫৪ জন। সব মিলিয়ে মোট জনবলের প্রায় ৫৫ শতাংশ শূন্য, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ট্রেন চলাচলে।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনবল সংকটের কারণে পাকশী বিভাগে ৫৬টি স্টেশন পুরোপুরি ও ২টি স্টেশন আংশিক বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে লালমনিরহাট বিভাগে ইতোমধ্যে ১১টি স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাও এই সংকটের অন্যতম কারণ। ২০১৮ ও ২০১৯ সালের সহকারী স্টেশন মাস্টার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পরীক্ষা দীর্ঘ বিলম্বের পর ২০২২ সালের ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় এবং একই বছরের ১৩ নভেম্বর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ৫৬০টি পদের বিপরীতে ৫৮৭ জন নির্বাচিত হলেও তাদের মধ্যে প্রায় ২২৫ জন কাজের চাপ ও সুযোগ-সুবিধার অসামঞ্জস্যতার কারণে যোগদান করেননি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ৪১৭টি শূন্যপদের জন্য নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

সংকট সামাল দিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে অবসরপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টারদের চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগ দেয়, যার সংখ্যা ছিল ২০১ জন। এর মধ্যে লালমনিরহাট বিভাগে ছিলেন ২০ জন; তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন এবং আরেকজন যোগদান করেননি। পাকশি বিভাগের ৪১ জন। বাকি চুক্তিভিত্তিক স্টেশন মাস্টারদের মেয়াদ চলতি মাসের ৩০ তারিখে শেষ হচ্ছে।

লালমনিরহাট বিভাগের পার্বতীপুর থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত কিসমত, পীরগঞ্জ, সেতাবগঞ্জ, মঙ্গলপুর, কাঞ্চন জংশন ও চিরিরবন্দর স্টেশনে কর্মরত ৬ জন চুক্তিভিত্তিক স্টেশন মাস্টার এই মাসের শেষে দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন।

রেল কর্মকর্তারা জানান, এসব চুক্তিভিত্তিক স্টেশন মাস্টাররা চলে গেলে বিদ্যমান কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে, যার ফলে ট্রেন চলাচলে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে টানা ডিউটি করার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোঃ মোশাররফ হোসেন রেল নিউজ ২৪-কে জানান, তার দায়িত্বাধীন মন্মথপুর থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত এলাকায় ৬ জন চুক্তিভিত্তিক স্টেশন মাস্টার রয়েছেন, যারা চলতি মাস শেষে চলে যাবেন। তাদের পুনর্নিয়োগ হবে কিনা, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

লালমনিরহাট বিভাগের পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুল আল মামুন রেল নিউজ ২৪-কে জানান, চুক্তিভিত্তিক স্টেশন মাস্টারদের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তিনি বলেন, তারা চলে গেলে বেশ কয়েকটি স্টেশন বন্ধ করে দিতে হতে পারে।

এদিকে চুক্তিভিত্তিক স্টেশন মাস্টারদের সূত্রে জানা যায়, তাদের পুনর্নিয়োগের প্রস্তাব রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন