ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

২ বৈশাখ ১৪৩৩, ২৭ শাওয়াল ১৪৪৭

কক্সবাজার ‘আইকনিক’ স্টেশন ইজারা নিতে ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭:০৪, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৭:০৫, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজার ‘আইকনিক’ স্টেশন ইজারা নিতে ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ

ছবি: সংগৃহীত

দুই বছরের বেশি সময় আগে চালু হয়েছে কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন। ২১৪ কোটি টাকায় নির্মিত এ ‘‌আইকনিক’ স্টেশন ভবনে রয়েছে ৩৯ কক্ষের একটি আধুনিক আবাসিক হোটেল।

ছয়তলা স্টেশন ভবনের ২ লাখ ৩৮ হাজার বর্গফুট জুড়ে রয়েছে রেস্তোরাঁ, দোকান, অফিস, বিনোদন কেন্দ্রের মতো বাণিজ্যিক স্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা। তবে এগুলোর কোনোটিই এখনো চালু হয়নি। বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে স্টেশনটি ইজারার জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে দরপত্র আহ্বান করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সংস্থাটির সূত্রে জানা গেছে, আটটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কেউই দর প্রস্তাব জমা দেয়নি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দরপত্রের কিছু শর্তের কারণে আগ্রহী ব্যবসায়ীরা ‘একজোট’ হয়ে দর প্রস্তাব জমা দেয়া থেকে বিরত থেকেছেন। দরপত্রের শর্তে বলা ছিল, স্টেশনটি ১০ বছরের জন্য ইজারা দেয়া হবে। ব্যবসায়ীরা এটি ২০ বছরের জন্য ইজারা চাইছেন। আবার নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এককালীন ৫ কোটি টাকা এবং পারফরম্যান্স সিকিউরিটি হিসেবে আরো ১৫ কোটি টাকা দেয়ার শর্ত ছিল। এসব শর্ত নিয়ে ব্যবসায়ীরা আপত্তি তুলেছেন বলে জানিয়েছেন রেলের কর্মকর্তারা।কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনটি হোটেল ও ট্যুরিস্ট ম্যানেজমেন্টে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশী-বিদেশী কিংবা যৌথ অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইজারা দিতে চায় রেলওয়ে। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান স্টেশনটির রক্ষণাবেক্ষণ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও কর্মচারী ব্যবস্থাপনা করবে। এর বিনিময়ে স্টেশনটির নকশাকৃত ফ্লোরগুলোর স্থাপনা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিতে পারবে তারা। প্রতি বছর চুক্তিমূল্যের ৫ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়ানোর শর্ত রাখা হয়েছে।

রেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্টেশনটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হতে পারে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এ বিনিয়োগ থেকে তারা প্রত্যাশিত মুনাফা পাবেন না। এজন্য তারা চুক্তির কিছু শর্ত পরিবর্তনের দাবি করেছেন।

কক্সবাজার স্টেশন ইজারার জন্য গত ২৫ জানুয়ারি দরপত্র আহ্বান করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। দরপত্রে বলা হয়, আইকনিক স্টেশনটি অত্যাধুনিক স্থাপত্য নকশায় সমৃদ্ধ এবং উন্নত ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল সিস্টেমে সজ্জিত, যা ছয়টি তলাজুড়ে বিস্তৃত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিস্তৃত সেবা, টিকিট কাউন্টার, রিটেল শপ, ডিপারচার ও ওয়েটিং লাউঞ্জ, নিরাপদ লকার, পর্যটন তথ্য কেন্দ্র, পণ্য প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং প্রার্থনা কক্ষ। অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র, একটি ৩৯ কক্ষের হোটেল, অফিস স্পেস এবং একটি বহুমুখী হল, যা স্টেশনটিকে একটি সম্পূর্ণ সমন্বিত এবং বহুমুখী পরিবহন হাবে পরিণত করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে এ স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণ করছে। এ উচ্চমানের এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন স্থাপনাটির একটি স্মার্ট, সুবিধাজনক, টেকসই এবং ব্যাপক উপায়ে সর্বোত্তম রক্ষণাবেক্ষণ ও দক্ষ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে, বাংলাদেশ রেলওয়ে আইকনিক স্টেশনের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য একজন ভেন্ডর (পরামর্শক/প্রতিষ্ঠান) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ নিয়োগটি একটি প্রস্তাবিত বার্ষিক নির্দিষ্ট রাজস্বের ভিত্তিতে হবে, যা চুক্তির মেয়াদে প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে বৃদ্ধি পাবে।

দর প্রস্তাব দাখিলের শেষ সময় নির্ধারিত ছিল গত ৫ মার্চ। রেল ভবন সূত্রে জানা গেছে, আটটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কেউই দরপ্রস্তাব জমা দেয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে আগের দরপত্র পর্যালোচনা করে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠান দরপত্র সংগ্রহ করেছিল আমরা এরই মধ্যে তাদের সঙ্গে একটি সভা করেছি। সভায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবসায়ীরা দরপত্রের শর্ত নিয়ে কিছু পয়েন্ট তুলে ধরেছেন। লিখিত আকারে বিস্তারিত আমাদের জানানোর কথাও বলেছেন। যদিও আমরা এখনো তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে লিখিত কোনো প্রস্তাব পাইনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌আমরা রেলওয়ের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি মাথায় রেখে দরপত্রটি তৈরি করেছি। ব্যবসায়ীরা কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি তোলায় আমরা এখন দরপত্রটি পর্যালোচনা করব এবং পুনরায় দরপত্র আহ্বান করব।’

প্রসঙ্গত, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত হয়েছে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন। স্টেশনটি ২২ দশমিক ৭২ একর জমির ওপর মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৭ বর্গফুট এলাকাজুড়ে অবস্থিত। ২০২৩ সালের নভেম্বরের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর সে বছরের ডিসেম্বরে স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।

সৌজন্যে : বণিক বার্তা। 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন