শিরোনাম
প্রকাশ: ১৭:১৮, ২৬ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ৬ হাজার ৮২৯ জন টিএলআর (অস্থায়ী) শ্রমিক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের নেতা বিজয় মিত্র।
বিজয় মিত্র বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়েতে অনুমোদিত জনবল প্রায় ৪৭ হাজার হলেও বর্তমানে কর্মরত জনবল প্রায় ২৫ হাজার। ফলে প্রায় ২২ হাজার জনবলের ঘাটতি রয়েছে। নিয়োগ বিধি ও নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব টিএলআর শ্রমিকদের দিয়ে পরিচালনা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই শ্রমিকরা রেলওয়ের কার্যক্রম সচল রাখছেন। অথচ তিন মাসের অধিক সময় ধরে তাদের বেতন বকেয়া রয়েছে। একজন শ্রমিকের জন্য কয়েক মাসের বেতন আটকে থাকা মানে পুরো পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া।”
বিজয় মিত্রের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যম ও বিভিন্নভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও এখনো রেলওয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বেতন না পাওয়ায় অনেক শ্রমিক পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানোও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, “বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় মানুষ রক্ত দিয়েছে। সেই দেশে শ্রমিকের শ্রমের ন্যায্য মূল্য ও প্রাপ্য বেতন নিয়ে বৈষম্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। কর্মকর্তাদের বেতন নিয়মিত পরিশোধ হলেও যারা মাঠপর্যায়ে রেলওয়ের চাকা সচল রাখতে দিন-রাত কাজ করছেন, তাদের মাসের পর মাস বেতন অনিশ্চিত থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
রেল শ্রমিক দল নেতা বিজয় মিত্র দ্রুত টিএলআর শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ, তাদের চাকরির অনিশ্চয়তা দূর করা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে রেলওয়ে প্রশাসনের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “এই শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো শুধু দাবি নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”