ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬

২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

একদিনে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪ প্রাণহানি, রেলপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ

প্রকাশ: ১০:৪৯, ৪ আগস্ট ২০২৬

একদিনে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪ প্রাণহানি, রেলপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একদিনে পৃথক  ৪টি ট্রেন দুর্ঘটনায় এক স্কুলশিক্ষার্থীসহ চারজনের মৃত্যুর ঘটনা রেলপথে নিরাপত্তা ও জনসচেতনতার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। 

আজ সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বনানী, সায়দাবাদ, তেজগাঁও ও মগবাজার ওয়্যারলেস রেলগেট এলাকায় এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। 

রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ ঘটনায় রেললাইন ব্যবহার করে চলাচল, অসতর্ক পারাপার এবং নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষার বিষয়গুলো সামনে এসেছে।

সকালে বনানী রেলস্টেশনের উত্তর পাশে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় তন্ময় চৌধুরী তূর্য (১৪) নামে এক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। সে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
 প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রেললাইন ব্যবহার করে স্কুলে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। 

একই দিনে সায়দাবাদ রেলক্রসিং এলাকায় নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী কমিউটার ট্রেনের ধাক্কায় মো. আলী আজগর (৩২) নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন ও একটি চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ। চিঠিতে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তেজগাঁও রেলস্টেশন এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। রাত আটটার দিকে মগবাজার ওয়্যারলেস রেলগেট এলাকাতেও ট্রেনের ধাক্কায় আরও এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃত্যু হয়। নিহত দুজনের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পৃথক ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ট্রেনের গতি ও ব্রেকিং দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় চালক চাইলেও মুহূর্তের মধ্যে ট্রেন থামাতে পারেন না। 

ফলে রেললাইন ধরে হাঁটা, মোবাইল ফোনে কথা বলা, হেডফোন ব্যবহার করা কিংবা অনুমোদিত ক্রসিং ছাড়া লাইন পার হওয়ার মতো অসতর্কতা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেললাইন কোনোভাবেই চলাচলের পথ নয়। নির্ধারিত ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস ও অনুমোদিত ক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্কুল-কলেজ পর্যায়ে রেল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তাদের মতে, একদিনে চারজনের প্রাণহানির এই ঘটনা শুধু কয়েকটি দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান নয়,  বরং এটি রেলপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার একটি কঠিন স্মারক। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রেললাইনকে শর্টকাট পথ হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা গেলে এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চললে ভবিষ্যতে এমন অনেক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন