প্রকাশ: ১৪:৪৪, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৪:৪৪, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদক :
চীফ কমান্ড্যান্ট (পূর্ব) জহিরুল ইসলামের বদলী বানিজ্য থামছেই না। দুদকের মামলা ধামাচাপা দেয়ার জন্য কোটি টাকা যোগান দিতে গিয়ে গণ বদলির বাদশার মুকুট তার মাথায় থাকার পরেও বদলী বানিজ্য যেনো তার নিয়মিত অর্থের সংস্থানের একটি উৎস।
গতকাল সোমবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ৪ জন সিপাহীকে বদলি করা হয়েছে। নুরুজ্জামানকে সি আর বি থেকে নরসিংদীতে। ইয়াকুব আলীকে তেজগাঁও থেকে আইবি দেওয়ানগঞ্জ বাজার, শামীম হাসানকে এ/বি চট্টগ্রাম থেকে আই/বি চট্টগ্রাম এবং নরেশ বালাকে কক্সবাজার থেকে এ/বি চট্টগ্রামে বদলী করা হয়েছে।
রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর চীফ কমান্ড্যান্ট পূর্ব এর পক্ষে এই দপ্ত্রাদেশে স্বাক্ষর করেন আরএনবির এসি মোহাম্মাদ সালামত উল্লাহ।
গত ৫ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখ বদলি করা হয় ৩ জনকে, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখ বদলি করা হয় ৩ জনকে, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখ বদলি করা হয় ৪ জনকে। ৪ টি দপ্ত্রাদেশ রেল নিউজের কাছে পৌছেছে। এর বাইরেও আরো অনেককে বদলি করেছে যার দপ্ত্রাদেশ রেল নিউজ হাতে পায়নি। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে রেল নিউজ জানতে পেরেছে পূর্বাঞ্চলে যোগদান করার পরে দেড় মাসে ৩৭ জনকে বদলি করেছে চীফ কমান্ড্যান্ট (পূর্ব) জহিরুল ইসলাম।
গত মাসে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) শীর্ষ দুই পদে রদবদল করা হয়েছে। গত ০৮ ডিসেম্বর রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চীফ কমান্ড্যান্ট মো. আশাবুল ইসলামকে পশ্চিমাঞ্চলে এবং পশ্চিমাঞ্চলের চীফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলামকে পূর্বাঞ্চলে বদলি করা হয়েছে।
গত ০৮ ডিসেম্বর রেলওয়ের উপপরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস জিসা স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশের মাধ্যমে এই বদলি করা হয়।
একাধিক আরএনবি সদস্য রেলনিউজকে জানিয়েছেন, আরএনবিতে বদলি-বাণিজ্য ওপেন সিক্রেট বিষয়। ইনস্পেক্টর পদে বদলিতে এক লাখ থেকে দেড় লাখ, হাবিলদার পদে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ এবং সিপাহি পদে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়।
তারা জানান, বদলির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ লেনদেনই পরোক্ষভাবে নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। বদলি ঠেকাতে বা পছন্দের জায়গায় যেতে দুই ক্ষেত্রেই টাকা দিতে হয় শীর্ষ কর্তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম ১৯৯০ সালে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম টাইপিস্ট পদে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) যোগদান করেন। ২০০০ সালে তিনি দ্বিতীয় শ্রেণি পদে পদোন্নতি পান। ২০০২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিসিএস নন-ক্যাডারে (২১তম ব্যাচ) সহকারী কমান্ড্যান্ট পদে, ২০০৬ সালে কমান্ড্যান্ট এবং ২০২০ সালে চিফ কমান্ড্যান্ট পদে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীতে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হন।
কোটি টাকা দিয়ে দুদকের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার কাজটি তিনি সুন্দরভাবেই করেছেন। অভিযুক্তরা দুদকের চেয়ারম্যান মহোদয় বরাবর পুনঃরায় তদন্তের আবেদন জানান।
দুদকের ইস্যু এবং বদলী বানিজ্য নিয়ে কয়েকদিন পূর্বে রেলনিউজ তার অফিসিয়াল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও রেসপন্স পায়নি। ৩ দিন চেষ্টার পরে তার সাথে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরে, তিনি স্রেফ জানিয়ে দেন, ডিপার্টমেন্ট থেকে নিষেধ আছে, সাংবাদিকদের সাথে কথা বলা যাবে না। কে নিষেধ করেছে? বা কোন অফিস আদেশ আছে কিনা, এটা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।