শিরোনাম
মো: মোতাহার হোসেন সরকার
প্রকাশ: ১৫:৫৭, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৫৮, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় সাত কিলোমিটার রেলপথজুড়ে বিপুল সংখ্যক ক্লিপ উধাও হয়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রেল নিউজ ২৪ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, পীরগঞ্জ পৌরসভার ৪৫০ এলাকায় কিলোমিটার পিলার ৪৪৯/২-৪-৬ অংশ সহ প্রায় ৭ কিলোমিটার জুড়ে রেলপথে ২ হাজারের মতো রেল ক্লিপ নেই। পাশাপাশি ৪৪৯/৪-৬ এর মাঝামাঝি একটি স্লিপার ভেঙে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়, যা ট্রেন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করছে।
ওই সময় বিষয়টি ঠাকুরগাঁও জেলার আওতাধীন গ্যাং–৪-কে জানানো হলে তারা স্বীকার করে যে, পিলার ৪৪৯/৬ থেকে শুরু করে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে আনুমানিক সাত কিলোমিটার এলাকায় বহু ক্লিপ অনুপস্থিত। তাদের দাবি, অধিকাংশ ক্লিপ চুরি হয়ে গেছে এবং কিছু সময়ের সঙ্গে নষ্ট হয়েছে। এলাকাটি তুলনামূলক নির্জন হওয়ায় নেশাগ্রস্ত কিছু যুবক সুযোগ নিয়ে ক্লিপ খুলে নিয়ে যাচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। এতে রেললাইনের স্থায়িত্ব দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ভাঙা স্লিপার প্রসঙ্গে গ্যাং–৪ জানায়, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নতুন ক্লিপ সরবরাহ পাওয়া গেলে দ্রুত প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু করা হবে এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তৎপরতা চলছে বলেও তারা আশ্বাস দেয়।
তবে আজ, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে—দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন করে ক্লিপ বসানো বা ভাঙা স্লিপার পরিবর্তনের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট রেলপথে ঝুঁকি ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী মো. শিপন আলী রেল নিউজ ২৪-কে জানান, ৪৪৯/২-৬ অংশজুড়ে যদি একটানা ক্লিপ না থাকত, তাহলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতো। তবে এখানে কিছু দূর পরপর ক্লিপ অনুপস্থিত থাকায় তাৎক্ষণিক বড় ঝুঁকি নেই বললেই চলে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি পিডব্লিউ জানানো হবে এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ক্লিপ ও স্লিপার মজুদ থাকলে দ্রুত প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।