ঢাকা, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

২৯ ফাল্গুন ১৪৩২, ২৪ রমজান ১৪৪৭

রাষ্ট্রীয় গোপন নথি পাচারকারী রেক্টর সলিমুল্লাহর বাহারি রং

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫:২৮, ১৩ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০৫:২৮, ১৩ মার্চ ২০২৬

রাষ্ট্রীয় গোপন নথি পাচারকারী  রেক্টর সলিমুল্লাহর বাহারি রং

রেলওয়ের প্রশিক্ষণ একাডেমি, হালিশহর চট্টগ্রামের রেক্টর সলিমুল্লাহ বাহারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অনুমতি ছাড়া ভ্রমণ এবং রাষ্ট্রীয় গোপন নথি পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে তাকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া জবাবও গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানানো হয়েছে।
রেলওয়ের নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে জারি করা ৫৪.০১.০০০০.০০১.০০৪.০০১.২২-(অ)-৩৮১ নম্বরের চিঠিতে সলিমুল্লাহ বাহারের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, তিনি ২০২৫ সালের ৪ মার্চ থেকে ট্রেনিং একাডেমি হালিশহর, চট্টগ্রামের রেক্টর হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তার কর্মস্থলে উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়। অভিযোগ করা হয়, তিনি নিয়মিত একাডেমিতে অবস্থান করেন না এবং ইচ্ছামতো কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। এমনকি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের চট্টগ্রাম সফর ও বিভিন্ন মতবিনিময় সভাতেও তাকে উপস্থিত দেখা যায়নি।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সৈয়দপুরে অবস্থান করেন। ওই সফরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদারকির নামে দুইজন কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করা হয়, যার কোনো পূর্বানুমতি নেওয়া হয়নি এবং এ ধরনের সফরের প্রয়োজনীয়তাও ছিল না বলে চিঠিতে বলা হয়।
আরও গুরুতর অভিযোগ হিসেবে চিঠিতে বলা হয়, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এমডিএসপি) হিসেবে রেল ভবনে কর্মরত থাকার সময় তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে গোপন বৈঠক করতেন এবং প্রকল্প–সংক্রান্ত তথ্য ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) তার নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মকর্তা সুনব বড়ুয়াকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ আটক করে—এমন উল্লেখও রয়েছে ওই চিঠিতে।

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে সলিমুল্লাহ বাহার জবাব দেন। তবে তার দেওয়া জবাবের ভাষা ও আচরণ 'ঔদ্ধত্যপূর্ণ' উল্লেখ করে সেটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানায় মহাপরিচালকের দপ্তর।

পরবর্তীতে ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা ৫৪.০১.০০০০.০০১.০০৪.০০১.২২-(অ-১)-১৮৯ নম্বরের আরেকটি চিঠিতে বলা হয়, তিনি ইচ্ছামতো কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন এবং বিনা অনুমতিতে ও বিনা প্রয়োজনে সরকারি অর্থ ব্যয় করে ভ্রমণ করেছেন। সৈয়দপুর ও সৈয়দ লোকোমোটিভ কারখানায় প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে ভ্রমণের আগে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের ভ্রমণের কোনো প্রয়োজনীয়তা ছিল না এবং এতে সময় ও অর্থের অপচয় হয়েছে। ফিল্ড ট্রেনিং পরিদর্শনের নামে দুই কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে বিমানযোগে ভ্রমণ করার বিষয়েও তার ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানানো হয়।
এ ছাড়া দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করা এবং প্রকল্প–সংক্রান্ত তথ্য ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ফাঁসের অভিযোগে তার নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মকর্তা সুনব বড়ুয়া গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আটক হওয়ার বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি গোপন আইন, ১৯২৩ (Official Secrets Act 1923)–এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পাশাপাশি আত্মপক্ষ সমর্থনে দেওয়া তার জবাবে অসংযত ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে, যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮–এর পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়।
রেলওয়ের ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলনিউজকে  বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নানা আলোচনা চলছে। তাদের মতে, সলিমুল্লাহ বাহার ইচ্ছাকৃতভাবে রেল সেক্টরকে বিতর্কিত করার জন্য ও প্রশাসনিক টানাপোড়ন সৃষ্টির লক্ষ্যে এই কাজগুলো করে থাকেন।   তবে এ বিষয়ে সলিমুল্লাহ বাহারের বক্তব্য জানা যায়নি। তিনি বক্তব্য দিলে তা যুক্ত করা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন