শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭:০৮, ১ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের একতা, রংপুর, সুন্দরবন ও জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের অনবোর্ড সার্ভিস সংক্রান্ত দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ৪০ লক্ষ টাকা লেনদেন এর অভিযোগ এসেছে দুই কর্মকর্তার নামে। এরা হলো এডিজি অপারেশন মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম ও চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পশ্চিম) সুজিত কুমার বিশ্বাস।
সরকার নির্ধারিত দরের নিচে দর প্রস্তাব করে ৩ টি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন অংশগ্রহণকারী এক দরদাতা।
অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট চারটি প্যাকেজের দরপত্রে নির্ধারিত বেতন, ২% কনটিনজেন্সি এবং ২০% ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ কোনো লাভ বা মালামালের মূল্য না ধরলেও সর্বনিম্ন দর যথাক্রমে—
প্যাকেজ ৮ (একতা): ৮৪৩,৮৭,৩৭৯ টাকা, প্যাকেজ ৯ (রংপুর): ৮৪৩,৮৭,৩৭৯ টাকা, প্যাকেজ ১০ (সুন্দরবন): ৮৩৩,২১,২৫০ টাকা, প্যাকেজ ১১ (জাহানাবাদ): ৮৩৩,২১,২৫০ টাকা নির্ধারিত হয়।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, একাধিক প্রতিষ্ঠান এসব নির্ধারিত দরের চেয়েও কম দর প্রস্তাব করেছে, যা নিয়মবহির্ভূত এবং বাতিলযোগ্য। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ ধরনের দর কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয় এবং তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হাবিব বাণিজ্য বিতানকে দুইটি ট্রেন, শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজকে একটি ট্রেন এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের দোসর বিতর্কিত ব্যবসায়ী শাহ আলমের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানকে একটি ট্রেন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে ৪ টি ট্রেনের জন্য ৪০ লক্ষ টাকা আদান-প্রদান হয়েছে। যার পেছনে রয়েছে এডিজি অপারেশন নাজমুল ইসলাম ও সিসিএম ওয়েস্ট সুজিত কুমার বিশ্বাস।এরা দুজন রেলওয়ের ডিজিকে বিতর্কিত করার জন্য এই কাজটি করছেন। এতে দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান Bengala Five Star Security Services Ltd. জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলেও একই ধরনের পদ্ধতিতে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের অনবোর্ড সার্ভিস একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদান করা হয়েছে বলে তারা বিশ্বস্ত সূত্রে জেনেছে, যা আইনের ব্যত্যয়।
এদিকে, পৃথক আরেক অভিযোগে বলা হয়েছে, গাণিতিক ত্রুটির ব্যাখ্যার নামে দরপত্রের BOQ পূর্ণ নির্ধারণ করে বিশেষ কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু প্রতিষ্ঠান ২% কনটিনজেন্সি, মালামালের মূল্য, লভ্যাংশ এবং ২০% ভ্যাট-ট্যাক্স উল্লেখ না করেই দর প্রস্তাব করলেও সেগুলো সংশোধনের সুযোগ পাচ্ছে।অভিযোগকারীর দাবি, BOQ অনুযায়ী সব উপাদান—বেতন, মালামাল, কনটিনজেন্সি, লভ্যাংশ ও ভ্যাট-ট্যাক্স—গাণিতিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো কলামে দর উল্লেখ না থাকলেও বাজারদরের ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করা উচিত। এ বিষয়ে গাণিতিক ত্রুটির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের এডিজি অপারেশন নাজমুল ইসলাম ও চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম)ওয়েস্ট সুজিত কুমার এর সাথে যোগাযোগ এর চেষ্টা করেছে রেলনিউজ। এডিজি অপারেশন এর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিস্তারিত দেয়া হয়েছে কিন্তু বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আর সুজিত কুমার এর হোয়াটসঅ্যাপ না থাকায় তাকে এসএমএস দেয়া হয়েছে। রেসপন্স পাওয়া যায়নি।
এই নিউজের ব্যাপারে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে যুক্ত করা হবে।