ঢাকা, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

৫ ভাদ্র ১৪৩৩

ভৈরব রেলওয়ের মালগুদাম বাগানবাড়িতে শতবর্ষী বটগাছ কাটার অভিযোগ, জনমনে ক্ষোভ

কিশোরগঞ্জ থেকে শাহ সারওয়ার ও ফরহাদ হোসেন রাজ

প্রকাশ: ২৩:২৪, ২০ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২৩:২৪, ২০ আগস্ট ২০২৬

ভৈরব রেলওয়ের মালগুদাম বাগানবাড়িতে শতবর্ষী বটগাছ কাটার অভিযোগ, জনমনে ক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলওয়ের মালগুদাম বাগানবাড়ি এলাকায় প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো একটি বটগাছ কাটার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সরকারি রেলওয়ের জায়গায় থাকা দৃষ্টিনন্দন ও শোভাবর্ধনকারী এ গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা এবং রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় ভৈরব বাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৭৯, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা হয়েছে। ভৈরব থানার মামলা নম্বর-২৮, তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৬। মামলায় চুরি হওয়া গাছটির আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, ভৈরবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ের মালগুদাম বাগানবাড়ির রেলওয়ে ভূমিতে দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে ছিল বিশাল আকৃতির একটি বটগাছ। স্থানীয়দের দাবি, গাছটির বয়স প্রায় দেড়শ বছর। সম্প্রতি গাছটি কেটে ফেলা হলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে ভৈরব বাজার শাখার ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন ১৮ আগস্ট গাছ কাটার বিষয়ে পূর্বেই সংবাদ পেয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ঘটনাস্থলে না গিয়ে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, রেলওয়ের নিজস্ব জায়গায় থাকা একটি শতবর্ষী গাছ কাটার খবর পাওয়ার পরও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিলেন না কেন? মাত্র প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বে থাকা স্থানটিতে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব ছিল কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গাছ কাটার ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গাছটি বড় হওয়ায় তা জব্দ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে মামলার আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সরাসরি পাওয়া না গেলেও তাঁর এক হিতাকাঙ্ক্ষীর দাবি, মামুন ওই এলাকার একটি গুদাম লিজ নিয়েছেন। গাছটি তাঁর লিজ নেওয়া জায়গার মধ্যে পড়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তবে গাছ কাটার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন।
স্থানীয়দের দাবি, রেলওয়ের জায়গায় থাকা এত পুরোনো ও মূল্যবান একটি গাছ কীভাবে কর্তনের সুযোগ পেল এবং এ ঘটনায় রেলওয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রেলওয়ের সম্পত্তি ও মূল্যবান বৃক্ষ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন