শিরোনাম
প্রকাশ: ১৯:৫৪, ১৯ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে সিগন্যাল সরঞ্জাম চুরির মহোৎসব শুরু হয়েছে। গত জুন-জুলাই দুই মাসেই দুই বিভাগের বিভিন্ন স্টেশন ও সেকশন থেকে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সিগন্যাল সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। এতে সিগন্যালিং ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার পাশাপাশি ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
রেলওয়ের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মূলত পয়েন্ট মোটর, বিভিন্ন কোরের কেবল (তার), সিগন্যাল পোল এবং ট্র্যাক সার্কিট সরঞ্জামই চোরচক্রের প্রধান লক্ষ্য।
এ বিষয়ে রেলওয়ের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (টেলিকম) সৈয়দ মো. শাহিদুজ্জামান আমাদের সময়কে বলেন, গত ৬ মাসে এ ঘটনা বেড়ে গেছে। এতে ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এ ইস্যুতে থানায় মামলা ও জিডি করা হয়েছে। ঘটনাটি বড় উদ্বেগের।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জের রশিদপুর স্টেশনে গত জুলাই মাসেই পাঁচবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। ৪ জুলাই থেকে শুরু করে ৮, ১৪, ২১ এবং ২২ জুলাই ধারাবাহিকভাবে এই স্টেশনের ট্র্যাক সার্কিট সরঞ্জাম ও কেবল চুরি হয়। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম জংশন ক্যাবিন এলাকায় গত ১১ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিন সিগন্যাল সরঞ্জামের বিভিন্ন পিন ও মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে দামি পয়েন্ট মোটর এবং এর যন্ত্রাংশ চুরি হয়। এ ছাড়া ক্যাবল চুরির পরিমাণও আশঙ্কাজনক। আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী এলাকায় ৩২-কোর, ২০-কোর এবং ১০-কোরসহ বিভিন্ন সাইজের সিগন্যাল তার কেটে নিয়ে গেছে দুষ্কৃতকারীরা। এমনকি সিগন্যাল পোস্টের লোহার সিঁড়ি, এলইডি লাইট এবং শান্ট সিগন্যালও চুরির হাত থেকে রেহাই পায়নি। পাহাড়তলীস্থ সহকারী সিগন্যাল ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী মো. সুলায়মান হোসেন এক প্রতিবেদনে জানান, ফৌজদারহাট, ভাটিয়ারী ও কুমিরা সেকশনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা বিভাগের অবস্থা নিয়ে একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন কমলাপুরস্থ সহকারী প্রকৌশলী সিরাজুম মুনিরা।
প্রতিটি চুরির ঘটনার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকসহ (ডিআরএম) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি রিপোর্ট’এর মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মামলা করা হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, একের পর এক সিগন্যাল সরঞ্জাম চুরির ফলে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, যা নিরাপদ ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোরচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।